1. yenboravisluettah@gmail.com : bimak73555 :
  2. faysalislam405@gmail.com : ফয়সাল ইসলাম : ফয়সাল ইসলাম
  3. tajul.islam.jalaly@gmail.com : তাজুল ইসলাম জালালি : তাজুল ইসলাম জালালি
  4. marufshakhawat549@gmail.com : মারুফ হোসেন : মারুফ হোসেন
  5. saddam.samad.24@gmail.com : সাদ্দাম হোসাইন : সাদ্দাম হোসাইন
  6. : :
বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন

আমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গেলে শিক্ষার্থী, বাহিরে গেলে সাধারণ মানুষ

সাদ্দাম হোসাইন
  • প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ২৪ আগস্ট, ২০২১
  • ৩৫৮ বার পড়া হয়েছে
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গেলে শিক্ষার্থী, বাহিরে গেলে সাধারণ মানুষ
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গেলে শিক্ষার্থী, বাহিরে গেলে সাধারণ মানুষ

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ আজ প্রায় ২ বছর হয়ে গেল। কিন্তু এখনো আমরা শিক্ষার্থীরা স্কুল, কলেজ খোলার কোনো আশা দেখতে পারছিনা। হ্যাঁ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে একেক সময় একেক মন্ত্রীর বা বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য শুনতে পাই। ভ্যাকসিনের স্টক শেষ হওয়ার পর শিক্ষামন্ত্রী গত মে মাসের ২৬ তারিখ বলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের টিকাদান নিশ্চিত করেই বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হবে। তখন তিনি ১৩ জুন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় না খুলে স্কুল-কলেজ খোলার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। তার ৩ দিন পর ৩০ মে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের করোনা পরিস্থিতি অনুকূল না থাকলে ১৩ জুন থেকে স্কুল-কলেজ খোলা হবে না।’

আবার ৩০ জুন শিক্ষামন্ত্রী জাতীয় সংসদে বলেন, করোনার উচ্চ সংক্রমণের সময়কালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার দাবি একেবারেই অবান্তর। তিনি আরও বলেন, বিজ্ঞান বলছে, ৫ শতাংশ বা তার কমে সংক্রমণের হার না নামা পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। আবার ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক বিশ্বজিৎ চন্দ্র বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে ক্লাস শুরু করার আগে অবশ্যই টিকা দিতে হবে। দেশে ভ্যাকসিন সহজলভ্য হওয়ায় আমরা সেপ্টেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয় পুনরায় খোলার পরিকল্পনা করছি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত সাড়া দিলে তা সম্ভব হবে’।

কিন্তু তারা কি বুঝতে পারছেনা যে, তাদের একেক সময় একেক বক্তব্য আমাদের কতটা মানসিক চাপে ফেলছে। পারিবারিক, সামাজিক বা বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা কি ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। আজ আমাদের এই পরিস্থিতি দেখে মনের গভীরে কিছু কথা নাড়া দেয়। আমাদের শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলছে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পর যদি করোনার আক্রমণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কারো জীবন শেষ হয়ে যায় এই ভেবে। তাদের এই সিন্ধান্তকে আমরা সবাই সালাম ও শ্রদ্ধা জানাই।

করোনার কারণে একের পর এক লকডাউনে ভুগতে হয়েছে এদেশের মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত পরিবারদের। যখন লকডাউন নামে এক বোঝা মাথায় চেপে বসে, তখন সংসার চালাতে না পারা মা-বাবার পাশে দাঁড়াতে হয় সন্তানকে। তখন সংসারের হাল ধরতে গিয়ে কাজ করার জন্য বেরিয়ে পড়ে। আবার অনেকে বেকার বসে থাকার কারণে কোনো কাজে লেগে যায়। এই সন্তানইতো কোনো না কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। তাহলে তাদেরকে কেন সংসার চালানোর দায়িত্ব নিয়ে কাজে যাওয়া বন্ধ করা হয় না।

এখন বাংলাদেশে অফিস আদালত থেকে শুরু করে বিনোদন কেন্দ্র পর্যন্ত সবকিছুই খোলা। দীর্ঘ দিন একটা বন্দি জীবনে থেকে সবাই একঘেয়েমি হয়ে গেছে। আর তাই এই একঘেয়েমি দূর করার জন্য যুবক-যুবতীরা পরিবার বা বন্ধুবান্ধব নিয়ে ঘুরতে যায়। দেখা যায় তখন পরিবারও তাদেরকে বাঁধা দেয় না। এই যুবক-যুবতীরাওতো কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। তাহলে তাদেরকে কেন “ছোট্ট সোনা মনিরা তোমাদের করোনা হবে যাও বাসায় যাও” বলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়না।

লকডাউন উঠে যাওয়ার পর অনেক অভিভাবককে দেখা যায়, বাজার ঘাটে পর্যন্ত বাচ্চাদেরকে নিয়ে যাচ্ছেন, রেস্টুরেন্টে খেতে যাচ্ছেন। গ্রামে-শহরের পাড়া-মহল্লায় যুবক ছেলেরা চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন জায়গায় একত্র হয়ে গল্প গুজব করে, আড্ডা দেয়। বিকেল হলেই হাতিরঝিল, সান ভ্যালি সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক জায়গায় জনসমাগম বেড়ে যায়। দেখা যায় তাদের মধ্যে বেশিরভাগই স্কুল, কলেজ, ভার্সিটির ছেলেমেয়েরা। তারাওতো শিক্ষার্থী। তাহলে তখন তাদেরকে কেন বাঁধা দেওয়া হয় না।

যেই শিক্ষার্থীরা করোনার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারে না, সেই শিক্ষার্থীরাই-তো করোনার মধ্যে কাজ করতে বের হচ্ছে। যেই শিক্ষার্থীরা করোনার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারে না, সেই শিক্ষার্থীরাই-তো করোনার মধ্যে ঘুরতে যাচ্ছে। যেই শিক্ষার্থীরা করোনার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারে না, সেই শিক্ষার্থীরাই-তো পাড়া-মহল্লায় গল্প গুজব, আড্ডা দিয়ে বেড়াচ্ছে। আর এই দৃশ্য তো দেশের উচ্চ পর্যায়ের লোকেরা দেখছে। তাহলে মনের ভিতর শুধু একটা প্রশ্ন জাগে, করোনার মধ্যে যেই শিক্ষার্থীরা সব জায়গায় যেতে পারে, সবকিছু করতে পারে তাহলে সেই শিক্ষার্থীরা কেন স্কুল, কলেজে যেতে পারছেনা, প্রিয় জায়গায় গিয়ে লেখাপড়া করতে পারছেনা। আর আমার মনে হয় এই প্রশ্নের একটাই উত্তর হতে পারে সেটা হলো- আমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গেলে শিক্ষার্থী, বাহিরে গেলে সাধারণ মানুষ। প্রত্যেক ব্যক্তিরই স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার আছে। তাই এই কথাগুলো বললাম। কারণ আমি নিজেও একজন শিক্ষার্থী।

   

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গেলে শিক্ষার্থী, বাহিরে গেলে সাধারণ মানুষ

বিজ্ঞাপন




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও
Share via
Copy link
© ২০২৩- সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । হক কথা ২৪.নেট
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )
Share via
Copy link