1. faysalislam405@gmail.com : ফয়সাল ইসলাম : ফয়সাল ইসলাম
  2. tajul.islam.jalaly@gmail.com : তাজুল ইসলাম জালালি : তাজুল ইসলাম জালালি
  3. marufshakhawat549@gmail.com : মারুফ হোসেন : মারুফ হোসেন
  4. najmulnayeem5@gmail.com : নাজমুল নাঈম : নাজমুল নাঈম
  5. saddam.samad.24@gmail.com : সাদ্দাম হোসাইন : সাদ্দাম হোসাইন
সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩, ০২:২৯ অপরাহ্ন

ইজতিমার ইতিকথা

সাদ্দাম হোসাইন
  • প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৩
  • ২১ বার পড়া হয়েছে
ইজতিমার ইতিকথা

মফতি তাজুল ইসলাম জালালী
প্রচলিত দাওয়াত ও তাবলীগের স্বপ্নদ্রষ্টা হজরতজী মাওঃ ইলিয়াস (র.) তিনি ১৮৮৫ ইং সালে কান্ধালায় (নানার বাড়িতে) জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম হযরত মাওঃ ইসমাঈল (র.) হযরতজীর বাবা মাওঃ ইসমাঈল (র.) মেওয়াতে দ্বীন বঞ্চিত সাধারণ মানুষকে দ্বীনের তালিম দিতেন। এমনকি দিন মজুর লোকদেরকে দৈনিক মজুরি প্রদান করে নামাজ-কালাম অজু-গোসলসহ দ্বীনী জীবযাপনের পদ্ধতী শিখাতেন। তিনি সর্বসাধারনের দ্বীন শিক্ষার মানসে নিজামুদ্দীন এলাকায় মসজিদ ও মক্তব প্রতিষ্ঠা করেন। মহান এ সাধকের ইনতিকালের পর তার বড় ছেলে মাওঃ মুহাম্মদ মসজিদ ও মক্তবের দায়িত্ব কাধে তুলে নেন। ইলিয়াস (র.) তখনও বালক। ইলিয়াস (র.) এর মেজো ভাই মাওঃ ইয়াহইয়া ছিলেন মাওঃ রশীদ আহমাদ গাংগুহী (র.) এর খাছ খাদেম। তিনি তার ছোট ভাই ইলিয়াসের লেখা পড়ার ভার নিয়ে গাংগুহে নিয়ে আসেন। প্রাথমিক পড়া লেখা গাংগুহে শেষ হলে ইলিয়াসকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় দেওবন্দ মাদরাসায়। তিনি সেখানে শাইখুল হিন্দ মাহমুদুল হাসান দেওবন্দীর নিকট হাদিস পাঠ কনে। অত্যন্ত যোগ্য উস্তাদ ও মোবারক পরিবেশে শিক্ষা জীবন শেষ করেন ইলিয়াস (র.) হযরত গাংগুহী (র.) কোন ছাত্রকে বয়াত করাতেন না; কিন্তু ইলিয়াস (র.) এর আখলাক, আদব ও আমল দেখে ছাত্র ইলিয়াসকেই গাংগুহী (র.) বয়াত করে নেন। গাংগুহী (র.) এর ইনতিকালের পর খলীল আহমদ সাহরানপুরীর শিষ্যত্ব গ্রহন করেন এবং খেলাফত লাভ করেন। খেলাফতের পর সাহরানপুরেই অবস্থান করেন এবং মাদরাসায় দরসের খেদমত করতে থাকেন। এদিকে নিজ এলাকায় নিজের পিতা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মাদসার দায়িত্বে থাকা বড় ভাই মাওঃ মুহাম্মদ ইনতিকাল করেন। মেওয়াতীদের দ্বীনের খেদমত আর পিতার প্রতিষ্ঠিত মসজিদ মাদরাসার দায়িত্ব পালনের জন্য নিজের মুরব্বিদের সাথে পরামর্শক্রমে নিজ এলাকা মেওয়াতে স্থায়ী হওয়ার ফিকির করেন। দ্বীন বঞ্চিত সাধারণ মানুষের মাঝে দ্বীন প্রচারের প্রতি হযরত মাওঃ ইলিয়াস (র.)-এর অন্তরের দারুনভাবে কড়া নাড়ে। পিতা আপন জীবনের বেশ বড় একটি অংশ যে চেষ্টা ও মেহনতের উপর কাটিয়েছেন; যোগ্য সন্তান হিসেবে নিজের মনটাও বার বার এমন কাজের দিকেই এগিয়ে যায়। সাহরানপুর ছেড়ে আসার অন্যতম উদ্দেশ্যও এটা ছিল। তাই তিনি দ্বীন বঞ্চিত সাধারনের মাঝে দ্বীন প্রচারের পরিকল্পনা শুরু করেন। হঠাৎ তার অন্তরে খেয়াল আসল সফরের মাধ্যমে দাওয়াতী কাজ করলে হয়তো ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে। তিনি ধারনা করেন যে তিন দিন বা দশদিনের জন্য জামাত বদ্ধহয়ে সফরে বেরিয়ে কোন এলাকায় দাওয়াতের কাজ করলে আশানুরুপ সফলতা আসবে। তৎকালীন সময়ের একজন প্রসিদ্ধ মুফতি তালীমুল ইসলামের লেখক মুফতি কিফায়েতুল্লাহ (র.)-এর দরবারে বিষয়টি অবগত করালে মুফতি সাহেব বিষয়টির পক্ষে অভিমত পেশ করেন। এর পর থেকে ২৪ বছর এই চিন্তা চেতনার উপর দাওয়াতী কাজ করার পরে ১৯৪৪ ইং সনে হযরতজী মাওঃ ইলিয়াস (র.) ইনতিকাল করেন। ইনতিকালের আগের রাতে কয়েকজন বড় বড় মনিষি পরামর্শ করে ইলিয়াস (র.)-এর ছেলে মাওঃ ইউসুফ সাহেবকে এই কাজের জিম্মাদার করার অনুরোধ জানালে তিনি সম্মত হন। এর পর থেকেই বাবা ও দাদার মত উম্মতের প্রতি দরদী হয়ে হযরত মাওঃ ইউসুফ (র.) এই কাজ পরিচালনা করে আসেন। ইউসুফ সাহেবের উপস্থিতিতে ১৯৪৮ইং সালে সর্বপ্রথম ঢাকার কাকরাইলে বাৎসরিক ইজতিমা আরম্ভ হয়। এর পর ২য় বার ১৯৫৪ সালে চট্টগ্রামের হাজী ক্যাম্পে তালীগের বড় ইজতিমা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৫৮ সালে ৩য় বার নারায়নগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ইজতিমার আয়োজন হয়। ১৯৬০,১৯৬২,১৯৬৫ সনে লাগাতার ঢাকার রমনা ময়দানে এই ইজতিমা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৬৬ সালে সর্বপ্রথম ঢাকার অদূরে টঙ্গির তুরাগতীরে ইজতিমার আয়োজন করা হয়। এর পর থেকে প্রতিবছর এই একই স্থানে ইজতিমা হয়ে আসছে। আশির দশকের গোড়া থেকেই এই ইজতিমা বিশ্ব ইজতিমায় রূপ নিতে থাকে। সুদীর্ঘ পথ পারি দিয়ে ইজতিমা আজ এই অবস্থানে। বিশ্ব ইজতিমার কল্যাণে পৃথিবীতে দাওয়াতও তাবলীগের কাজ বহুত গতিশীল হয়ে যায়। পৃথিবীতে দ্বীনের ফিকিরের এ মেহনত দারুনভাবে সমাদ্রিত হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের ধর্মপ্রান সাধারন জনগন বেশ উৎসবমূখর হয়ে ইজতিমায় অংশগ্রহন করেন এবং সানন্দে চিল্লা, ৩চিল্লা ও সালের জন্য ইজতিমা ময়দান হতে উম্মতের ফিকিরে নিজের কাধে উম্মতের জিম্মাদারী বোঝা তুলে নেন। উল্লেখ্য, করোনা মহামারীর কারণে ২বার বিশ্ব ইজতিমা আয়োজন ব্যাহত হয়। নতুন উদ্যমে, স্বগৌরবে, উচ্ছাস ও ভালবাসায় উদ্ভাসিত হয়ে এবার ২০২৩ সালে ইজতিমা আয়োজিত হয়। আমরা ইজতিমার কামিয়াবী কামনা করি।

ইজতিমার ইতিকথা

বিজ্ঞাপন




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও
Share via
Copy link
© ২০২৩- সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । হক কথা ২৪.নেট
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )
Share via
Copy link