1. faysalislam405@gmail.com : ফয়সাল ইসলাম : ফয়সাল ইসলাম
  2. tajul.islam.jalaly@gmail.com : তাজুল ইসলাম জালালি : তাজুল ইসলাম জালালি
  3. marufshakhawat549@gmail.com : মারুফ হোসেন : মারুফ হোসেন
  4. sheikhmustakikmustak@gmail.com : Sheikh Mustakim Mustak : Sheikh Mustakim Mustak
  5. najmulnayeem5@gmail.com : নাজমুল নাঈম : নাজমুল নাঈম
  6. rj.black.privateboy@gmail.com : rjblack :
  7. saddam.samad.24@gmail.com : সাদ্দাম হোসাইন : সাদ্দাম হোসাইন
  8. samirahmehd1997@gmail.com : Samir Ahmed : Samir Ahmed
শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:৩০ অপরাহ্ন

ইসলামি ইতিহাসের প্রথম মসজিদ

সাদ্দাম হোসাইন
  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ২৫ জুলাই, ২০২১
  • ৭৫ বার পড়া হয়েছে
মসজিদে কুবা
মসজিদে কুবা

মসজিদে কু’বা নির্মাণঃ হজরত মুহাম্মদ (সা.) পবিত্র রবিউল আওয়াল মাসের প্রথম দিন আল্লাহর নির্দেশে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন। আর এ হিজরতের মধ্য দিয়ে মদিনা শহরকে কেন্দ্র করে ইসলাম ও কুরআনের বাণী বিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। রাসূল (সা:) হিজরতের পর সাহাবীরাও পর্যায়ক্রমে মদিনা গমন করেন। সাধারণভাবে হিজরতকারীদের মুজাহিদ বলা হতো। এই মুজাহিদদের হাতেই গড়ে ওঠে কুবা মসজিদ।

মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করে মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) সর্ব প্রথম আমর ইবনে আওফ এর গোত্রপতি কুলসুম ইবনে হিদম এর আদিত্ব্য গ্রহণ করেন এবং সেখানে ১৪ দিন অবস্থান করেন। এই সময়ে তিনি কুলসুম ইবনে হিদম এর খেজুর শুকানোর পতিত জমিনে মসজিদে কু’বা নির্মাণ করেন।

হজরত মুহাম্মদ (সা:) নিজ হাতে মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু করেন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। মূলত তারই তত্ত্বাবধানে মসজিদের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। হজরত মোহাম্মদ (সা.) প্রায় ২০ রাত এই মসজিদে অবস্থান করেন এবং কসর নামায আদায় করেন। হজরত মোহাম্মদ (সা.) কর্তৃক ইসলাম ধর্ম প্রচার শুরু হওয়ার পর পৃথিবীর বুকে নির্মিত প্রথম মসজিদ হলো এই কুবা মসজিদ।

মসজিদে কুবা

মসজিদে কু’বা সংস্কার ও পুনঃনির্মাণঃ
মসজিদে কু’বা নির্মাণের পর থেকে তা কয়েক দফা সংস্কার ও পুনঃনির্মাণ করা হয়েছে। ইসলামের তৃতীয় খলীফা হযরত ওসমান (রা.) এর শাসনামলে সর্বপ্রথম এই মসজিদ সংস্কার এবং পুনঃনির্মাণ করা হয়। এরপর আরো সাত বার এ মসজিদ সংস্কার এবং পুনঃনির্মাণ করা হয়। বিংশ শতকে আবদুল ওয়াহেদ আল ওয়াকিলের নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিশন সৌদি আরবের পুরনো সব মসজিদ পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ শুরু করেন। এ সময় মূল কুবা মসজিদ এতই দুর্বল হয়ে পড়ে, তা ভেঙে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। মসজিদে নববীর দক্ষিণ পশ্চিম দিকে অবস্থিত এ মসজিদের দূরত্ব মসজিদে নববী থেকে ৩.২৫ কি.মি.। বর্তমানে কুবা মসজিদ চত্বরে মূল মসজিদ ছাড়াও আবাসিক এলাকা, অফিস, অজুখানা, দোকান ও লাইব্রেরি রয়েছে। 

মসজিদে কু’বা এর বৈশিষ্টঃ
মসজিদের মূল আকর্ষণ ছয়টি বিশাল গম্বুজ এবং চার কোণায় চারটি সুউচ্চ মিনার। মসজিদে মহিলাদের নামাজের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রয়েছে। মদিনাবাসীর সরলতা এবং মদিনার পবিত্রতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে ১৯৮৬ সালে মসজিদটির পুনর্নির্মাণকালে পুরো মসজিদে ব্যাপকভাবে সাদা ব্যাসল্ট পাথর ব্যবহার করা হয়। চতুর্দিকের সুবজ পাম গাছের বলয় মসজিদটিকে বাড়তি সৌন্দর্য প্রদান করেছে। তা ছাড়া ছাদের অন্য অংশে আছে গম্বুজের মত অনেক ছোট ছোট অবয়ব। পাশে আছে অনেক খেজুরের বাগান যা দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। চারপাশের খেজুরের বাগান ও বনায়ন মসজিদটির সৌন্দর্য্ কে করে তুলেছে অতুলনীয়।সূর্যাস্তের হলদে বিকালে মসজিদটি দেখলে হৃদয় ভরে যায়।

মসজিদে কুবা

মসজিদে কু’বা এর মর্যাদাঃ
মসজিদে হারাম, মসজিদে নববী এবং মসজিদে আকসার পরেই মসজিদে কু’বা এর সম্মান। কুরআনে সুরা তওবার ১০৮ নং আয়াতে এই মসজিদের কথা উল্লেখ আছে-

« وَالَّذِينَ اتَّخَذُواْ مَسْجِدًا ضِرَارًا وَكُفْرًا وَتَفْرِيقًا بَيْنَ الْمُؤْمِنِينَ وَإِرْصَادًا لِّمَنْ حَارَبَ اللّهَ وَرَسُولَهُ مِن قَبْلُ وَلَيَحْلِفَنَّ إِنْ أَرَدْنَا إِلاَّ الْحُسْنَى وَاللّهُ يَشْهَدُ إِنَّهُمْ لَكَاذِبُونَ »

তুমি সেখানে কখনো (সালাত কায়েম করতে) দাঁড়িও না। অবশ্যই যে মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাকওয়ার উপর প্রথম দিন থেকে তা বেশী হকদার যে, তুমি সেখানে সালাত কায়েম করতে দাঁড়াবে। সেখানে এমন লোক আছে, যারা উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করতে ভালবাসে। আর আল্লাহ পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালবাসেন।

একাধিক সূত্র এবং হাদিস থেকে জানা যায়, হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “নিজ আবাস্থল বা বাসা থেকে অজু করে কেউ যদি এই মসজিদে আসে এবং দুই রাকাত নফল নামায আদায় করে তবে সে একটি ওমরাহ আদায়ের সওয়াব লাভ করবে।” মদিনায় রাসূূল (সা:) যে দশ বছর কাটিয়েছেন সে সময় তিনি পায়ে হেঁটে বা উটে করে মসজিদে কু’বায় আসতেন। বিশ্বনবির ইন্তিকালের পরেও হযরত আবু বকর (রা:), হযরত ওমর ফারুক (রা:) সহ বিশিষ্ট সাহাবায়ে কিরাম বিশ্বনবির অনুকরণে প্রায়ই মদিনা থেকে মসজিদে কুবায় আসতেন এবং তাতে নামাজ আদায় করতেন।

হজরত উসাইদ ইবনে হুজাইব আল আনসারী (রা:) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, ‘মসজিদে কুবায় এক ওয়াক্ত নামায আদায় করা; সওয়াবের দিক থেকে একটি ওমরা আদায়ের সমতুল্য।’ (তিরমিজি)

বর্তমানে মদিনায় অনেক সুন্দর সুন্দর মসজিদ রয়েছে। মসজিদে নববির পর সৌন্দর্য্য ও নান্দনিকতার তালিকায় মসজিদে কুবা অন্যতম। পবিত্র হজ ও ওমরাহ পালনকালে এই মসজিদে নফল নামায আদায়ে সচেষ্ট থাকেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

বিজ্ঞাপন





শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও
© ২০২১ - সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । হক কথা ২৪.নেট
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )