1. faysalislam405@gmail.com : ফয়সাল ইসলাম : ফয়সাল ইসলাম
  2. tajul.islam.jalaly@gmail.com : তাজুল ইসলাম জালালি : তাজুল ইসলাম জালালি
  3. marufshakhawat549@gmail.com : মারুফ হোসেন : মারুফ হোসেন
  4. sheikhmustakikmustak@gmail.com : Sheikh Mustakim Mustak : Sheikh Mustakim Mustak
  5. najmulnayeem5@gmail.com : নাজমুল নাঈম : নাজমুল নাঈম
  6. rj.black.privateboy@gmail.com : rjblack :
  7. saddam.samad.24@gmail.com : সাদ্দাম হোসাইন : সাদ্দাম হোসাইন
  8. samirahmehd1997@gmail.com : Samir Ahmed : Samir Ahmed
শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:২৮ পূর্বাহ্ন

উগ্রতায় বিভোর ছিল ফেরাউন

সাদ্দাম হোসাইন
  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ৯ আগস্ট, ২০২১
  • ৪৮ বার পড়া হয়েছে
ফেরাউন
ফেরাউন

ফেরাউন আরবি শব্দ। এর ইংরেজি শব্দ ফারাও, বাংলা ফেরাউন। ৩২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে দেশীয় রাজা মেনেসের নেতৃত্বে সারা মিসর ঐক্যবদ্ধ হলে সূচনা হয় ফারাও রাজবংশের।

ফারাও বা ফেরাউন প্রাচীন মিসরীয় সম্রাটের রাজকীয় উপাধি। প্রচলিত ফেরাউন বলতে দ্বিতীয় রামসিসকে (১২৭৯-১২১৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) বোঝায়। ফেরাউন তুতেন খামেন, কাবুস ইত্যাদি পরিচয়ে কুখ্যাত। ইবনে কাসিরে ফেরাউনের পূর্ণ নাম হলো ওয়ালিদ ইবনে মুসাইয়্যিব ইবনে রাইয়্যান। এই পাপিষ্ঠের নাম পবিত্র কুরআন শরীফের ২৭ সূরায় ৭৪ বার আছে।

প্রাচীন মিসরের রাজধানী পেন্টাটিউক দ্বিতীয় রামসিস নামধারী ফেরাউনের আবাসস্থল। তার ১১১ পুত্র ও ৬৭ কন্যা ছিল। বর্ণিত আছে, ফেরাউন একবার দুঃস্বপ্ন দেখে, স্বপ্নের ব্যাখ্যার মাধ্যমে জানতে পারে, বনি ইসরাঈল গোত্রে জন্মগ্রহণকারী এক পুত্রসন্তানের হাতে ফেরাউনের রাজত্বের অবসান ঘটবে। তখন ফেরাউন গুপ্তচর লাগিয়ে দেয়, যেন কোনো পুত্র শিশুর জন্ম না হয়। পবিত্র কুরআনের ভাষায়, ‘ফেরাউন পৃথিবীতে ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেছিল এবং সে তার জনগণকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করেছিল। তাদের এক শ্রেণিকে সে অত্যন্ত দুর্বল করে রেখেছিল, যাদের পুত্রসন্তানকে সে জবাই করত ও নারীদের (ভোগের জন্য) জীবিত রাখত…।’ (সূরা : কাসাস, আয়াত : ০৪)

এমন কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে হযরত মুসা (আঃ)-জন্ম গ্রহণ করেন। ক্ষমতার দাপট, ঔদ্ধত্যে বিভোর ফেরাউন নিজেকে শ্রেষ্ঠ প্রতিপালক ‘রাব্বুল আলা’ ঘোষণা করে (নাঊযুবিল্লাহ)। পবিত্র কুরআনের ভাষায়, ‘সে বলল, আমিই তোমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিপালক বা রব। পরিণামে সে আল্লাহর ইহ-পারলৌকিক শাস্তিতে নিপতিত হলো। নিশ্চয়ই এর মধ্যে আছে ধর্মভীরুদের জন্য পরম শিক্ষা।’ (সূরা : নাজিয়াত, আয়াত : ২৪-২৬)

যখন ফেরাউনের অবাধ্যতা ও অনাচার চরমে পৌঁছায়, তখন নিপীড়িত জনতার আর্তনাদ পৌঁছায় আল্লাহর দরবারে: ‘হে আমাদের রব! আমাদের এই অত্যাচারীর জনপদ থেকে মুক্তি দাও।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৭৫)

শুধু তা-ই নয়, ফেরাউন তার ছয় হাজার কিবতি সেনা নিয়ে মুসা (আ.)-এর অনুসারীদের তাড়া করে লোহিত সাগরের তীরে নিয়ে আসে। তখনই ফেরাউনের জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তির ব্যবস্থা করা হলো। আল্লাহ ঘোষণা করলেন, ‘সুতরাং আমি তাকে ও তার বাহিনীকে ধরলাম এবং তাদের সাগরে নিক্ষেপ করলাম।’ (সূরা : কাসাস, আয়াত : ৪০)

অত্যাচারী ফেরাউনের পতন ও পরাজয় হয় অন্যদিকে মূসা (আঃ)-এর জয় হয়। মুসা (আ.)-এর দুর্বল, অসহায় অনুসারীরা পেল মুক্তি-স্বাধীনতা। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি বনি ইসরাঈলকে সাগর পার করিয়ে দিলাম। তখন ফেরাউন ও তার বাহিনী অত্যাচার ও সীমা লঙ্ঘনের উদ্দেশ্যে তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল। তারপর যখন সে ডুবে মরার উপক্রম হলো, তখন বলতে লাগল, আমি বিশ্বাস করলাম, বনি ইসরাঈল যে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছে, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আমি অনুগতদের অন্তর্ভুক্ত। (আল্লাহর পক্ষ থেকে জবাব এলো) এখন ঈমান আনছিস? অথচ এর আগে তো তুই অবাধ্যতা করেছিস এবং তুই তো অশান্তি সৃষ্টিকারীদের মধ্যে ছিলি।’ (সূরা : ইউনুস, আয়াত : ৯৯, ৯১)

১৮৮১ সালে মিসরের নিলের উপত্যকায় ফেরাউনের লাশ পাওয়া যায়। তখনো ওই লাশ মমি হয়নি। ১৮৮১, মতান্তরে ১৮৯৮ সালে মমি করে ফেরাউনের লাশ সংরক্ষণের ব্যবস্থা হয়। সাগরে ডুবে মরার কারণে ফেরাউনের শরীরে স্পষ্ট লবণাক্ততার উপস্থিতি পাওয়া যায়। তিন হাজার ১১৬ বছরের অধিককাল ফেরাউনের লাশ সংরক্ষিত থাকার মধ্যে পবিত্র কুরআনের বাণীর নিত্যতা প্রমাণিত হয়—‘আজ আমি তোর দেহ সংরক্ষণ করব, যাতে তুই তোর পরবর্তীকালের মানুষের জন্য নিদর্শন হয়ে থাকিস।’ (সূরা : ইউনুস, আয়াত : ৯২)

বিজ্ঞাপন





শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও
© ২০২১ - সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । হক কথা ২৪.নেট
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )