1. kzuoadmin@haquekotha24.net : :
  2. tmevadmin@haquekotha24.net : :
  3. faysalislam405@gmail.com : ফয়সাল ইসলাম : ফয়সাল ইসলাম
  4. tajul.islam.jalaly@gmail.com : তাজুল ইসলাম জালালি : তাজুল ইসলাম জালালি
  5. marufshakhawat549@gmail.com : মারুফ হোসেন : মারুফ হোসেন
  6. najmulnayeem5@gmail.com : নাজমুল নাঈম : নাজমুল নাঈম
  7. iucxadmin@haquekotha24.net : :
  8. saddam.samad.24@gmail.com : সাদ্দাম হোসাইন : সাদ্দাম হোসাইন
বৃহস্পতিবার, ০১ জুন ২০২৩, ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন

করোনায় অনেক ভাড়াটিয়া ঢাকা ছাড়ায় কষ্টে আছে বাড়িওয়ালারা

সাদ্দাম হোসাইন
  • প্রকাশিতঃ শনিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২১
  • ১৬৭ বার পড়া হয়েছে
ঢাকা ছেড়েছেন অনেক ভাড়াটিয়া
ঢাকা ছেড়েছেন অনেক ভাড়াটিয়া

করোনার মহামারির এই দুঃসময়ে ভালো নেই রাজধানী ঢাকার বাড়ি-ফ্ল্যাট মালিক ও ভাড়াটিয়ারা। করোনা মহামারিতে বার বার লকডাউনের কারণে সংসার চালাতে হিমশিম খাওয়ায় গ্রামে চলে গেছেন শতকরা ৪০ ভাগ ভাড়াটিয়া। ব্যস্ত শহরের অনেক ফ্ল্যাট, বাড়ি এখন ফাঁকা পড়ে আছে। রাজধানীর অনেক বাসা-বাড়ির গেটে বা দেওয়ালে লাগানো আছে ‘টু-লেট’ বা ‘বাড়ি ভাড়া’ বিজ্ঞাপন। অনেক পরিবার বড় বাসা ছেড়ে দিয়ে কম ভাড়ার বাড়িতে উঠতে বাধ্য হচ্ছে । করোনার কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যে ধাক্কা লেগেছে, তাতে কর্মহীন হয়ে পড়েছে দেশের লাখ লাখ মানুষ। আয় কমে গেছে অগণিত মানুষের।

এক সময় সবাই কাজের সুবাদে রাজধানীতে আসতেন, বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। আর এখন তারা এ পরিস্থিতিতে রাজধানী ছেড়ে চলে গেছেন গ্রামের বাড়িতে। অনেকে আবার বাসা ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে রেখেছেন বাড়ির মালিককে। এ কারণে মূলত ভাড়াটিয়া সংকট দেখা দিয়েছে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায়। অপরদিকে করোনা মহামারিতে শুধু যে ভাড়াটিয়ারাই অর্থসংকটে বিপদে পড়েছেন, তা নয়; একই সংকটে পড়েছেন বাড়ির মালিকরাও। বাড়ি ভাড়ার টাকায় সংসার চালানো বাড়িওয়ালারা ভাড়াটিয়া না পেয়ে মাসের পর মাস ভুগছেন অর্থকষ্টে।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশনের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ঢাকার ৮০ শতাংশ বাড়িওয়ালা বাড়ি ভাড়া দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। যেহেতু বাড়িই তাদের মূল উৎস, তাই বিভিন্ন বিল ও করের ঊর্ধ্বগতি সাপেক্ষে তারা বছরে গড়ে ৯ শতাংশ ভাড়া বাড়ান। ৭৫ শতাংশ বাড়িওয়ালা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে কিংবা সারা জীবনের সঞ্চয় দিয়ে বাড়ি বানিয়ে থাকেন। বাড়ি ভাড়া ছাড়া সাধারণত তাদের অন্য কোনো আয়ের উৎস থাকে না। তাই ঋণের কিস্তি পরিশোধ কিংবা সংসার চালানোর তাগিদে ভাড়া হাতে পাওয়া তার জন্য জরুরি হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশ ভাড়াটিয়া পরিষদের তথ্যমতে, গেল কয়েক মাসে ঢাকার মোট ভাড়াটিয়ার ৪০ শতাংশ রাজধানী ছেড়ে গ্রামে চলে গেছেন। করোনা মহামারিতে চাকরি চলে যাওয়া, বেতন কমিয়ে দেওয়া এবং ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ থাকার প্রভাব পড়েছে রাজধানীর ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালাদের ওপর। খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, এ ধরনের সমস্যা যে কেবল নিম্নবিত্তের তা নয়, মধ্যবিত্ত অনেক পরিবারও ঢাকায় বাড়ি ভাড়ার টাকা জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে।

লালমাটিয়ায় একটি ছয়তলা বাড়ির মালিক মোবাশ্বের হোসেন (ছদ্মনাম) বলেন, ‘আমার বিল্ডিংয়ে একটা ফ্ল্যাটে আমি থাকি আর বাকি ১০টা ফ্ল্যাট চুক্তি ভিত্তিতে নারীদের হোস্টেল ভাড়া দিয়েছিলাম। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় হোস্টেলের প্রতিটি সিট ফাঁকা পড়ে আছে। যারা আমার কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে হোস্টেলটি চালাতেন, তারাও ভালো নেই। কয়েক মাস তাদের জমানো টাকা থেকে আমাকে ভাড়া দিয়েছে। কিন্তু এখন আর দিতে পারছে না। এই ফ্ল্যাটগুলো যে অন্য কারো কাছে ভাড়া দিব, তাও কেউ এখন ভাড়া নিতে চায় না। মাসের পর মাস টু-লেট ঝুলছে গেটে, কেউ দেখতেও আসে না।’

মোবাশ্বের হোসেনের ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে হোস্টেল পরিচালনাকারী মরিয়ম বেগম (ছদ্মনাম) এর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে জানা যায়, গত বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা সেই মাসের ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে চলে গেছে। দফায় দফায় লকডাউন আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা আর রাজধানীতে ফেরেনি। তিনি বলেন, আমি নিজেও এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। এই হোস্টেলের আয় দিয়েই আমার সাত সদস্যের পরিবার চলত। বর্তমানে পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়িতে আছি।

ইতালি প্রবাসী সোয়েব হোসেন (ছদ্মনাম) বলেন, ‘করোনায় আমার চাকরি চলে গেছে, স্ত্রী-তিন সন্তান, বৃদ্ধ মা ও ভাই ঢাকায় আছে। রাজধানীর ফ্ল্যাট ভাড়ার টাকাই আমাদের আয়ের উৎস। অথচ আমার চাকরিও নেই, ঢাকায় বাড়ি ভাড়ার টাকাও নেই, এখন জমানো টাকা ভেঙে সংসার চালাতে হচ্ছে। সঙ্গে দিতে হচ্ছে তিন সন্তানের স্কুলের বেতন।’

এদিকে করোনা মহামারির কারণে মানুষের আয়ে যে প্রভাব পড়েছে তা বিবেচনা করে বেশ কয়েকটি সংগঠন বাড়ি ভাড়া কমানোর দাবি জানিয়েছে। বাংলাদেশ ভাড়াটিয়া কল্যাণ সমিতি এবং ভাড়াটিয়া পরিষদ, এক থেকে তিন মাসের বাড়ি ভাড়া মওকুফের জন্য বাড়ির মালিকদের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন।

ভাড়াটিয়া পরিষদের সভাপতি বাহারানে সুলতান বাহার বলেন, অনেক মানুষ বেকার এবং আয় কমার কারণে তাদের পরিবারকে গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন, আর আয়ের আশায় পরিবারের কর্তা ব্যক্তিটি কোনো মেসে বা কম টাকা ভাড়ার বাসায় উঠেছেন। মানুষকে খুব খারাপ অবস্থার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতিতেও অনেক বাড়ির মালিক ভাড়াটিয়াদের প্রতি সহানুভূতি না দেখিয়ে ভাড়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন। যে কারণে অনেকেই বাসা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ভাড়াটিয়াদের অসহায়ত্বের কথা বিবেচনা করে বাড়ির মালিকদের উচিত কিছুটা ছাড় দেওয়া, কিছুটা ভাড়া মওকুফ করা।

ঢাকা ছেড়েছেন অনেক ভাড়াটিয়া

বিজ্ঞাপন




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও
Share via
Copy link
© ২০২৩- সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । হক কথা ২৪.নেট
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )
Share via
Copy link