1. faysalislam405@gmail.com : ফয়সাল ইসলাম : ফয়সাল ইসলাম
  2. tajul.islam.jalaly@gmail.com : তাজুল ইসলাম জালালি : তাজুল ইসলাম জালালি
  3. marufshakhawat549@gmail.com : মারুফ হোসেন : মারুফ হোসেন
  4. sheikhmustakikmustak@gmail.com : Sheikh Mustakim Mustak : Sheikh Mustakim Mustak
  5. najmulnayeem5@gmail.com : নাজমুল নাঈম : নাজমুল নাঈম
  6. rj.black.privateboy@gmail.com : rjblack :
  7. saddam.samad.24@gmail.com : সাদ্দাম হোসাইন : সাদ্দাম হোসাইন
  8. samirahmehd1997@gmail.com : Samir Ahmed : Samir Ahmed
শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন

কুরবানির ইতিহাস

সাদ্দাম হোসাইন
  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ১২ জুলাই, ২০২১
  • ৯১ বার পড়া হয়েছে
হযরত ইবরাহিম (আ) ও ইসমাঈল (আ)এর ঘটনা

কুরবানির ইতিহাস অতি প্রাচীন। পৃথিবী সৃষ্টির প্রথম দিক থেকেই কুরবানির প্রচলন শুরু হয়েছে। পৃথিবীতে এমন কোনো জাতি ছিল না, যে জাতিরা নিজ মাযহাব অনুসারে কুরবানি করেনি। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন কুরবানি সম্পর্কে ঘটনা তুলে ধরেছেন-

وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ ابْنَيْ آدَمَ بِالْحَقِّ إِذْ قَرَّبَا قُرْبَاناً فَتُقُبِّلَ مِنْ أَحَدِهِمَا وَلَمْ يُتَقَبَّلْ مِنْ الآخَرِ قَالَ لأَقْتُلَنَّكَ قَالَ إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ اللهُ مِنْ الْمُتَّقِينَ
আপনি তাদেরকে আদমের দুই পুত্রের (হাবিল ও কাবিলের) বাস্তব অবস্থা পাঠ করে শুনান। যখন তারা উভয়েই কিছু উৎসর্গ নিবেদন করেছিল। তখন তাদের একজনের উৎসর্গ গৃহীত হয়েছিল এবং অপরজনের গৃহীত হয়নি। তাদের একজন বললঃ আমি অবশ্যই তোমাকে হত্যা করব। অপরজন বললঃ আল্লাহ ধর্মভীরুদের পক্ষ থেকেই তো গ্রহণ করেন। (সুরা মায়েদা : আয়াত ২৭)

لَئِنۡۢ بَسَطۡتَّ اِلَیَّ یَدَکَ لِتَقۡتُلَنِیۡ مَاۤ اَنَا بِبَاسِطٍ یَّدِیَ اِلَیۡکَ لِاَقۡتُلَکَ ۚ اِنِّیۡۤ اَخَافُ اللّٰهَ رَبَّ الۡعٰلَمِیۡنَ
সে (হাবিল) বলল, যদি তুমি আমাকে হত্যা করতে আমার দিকে হস্ত প্রসারিত কর, তবে আমি তোমাকে হত্যা করতে তোমার দিকে হস্ত প্রসারিত করব না। কেননা, আমি বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহকে ভয় করি। (সুরা মায়েদা : আয়াত ২৮)

তারপর ধারাবাহিকভাবে প্রত্যেক যমানায় সব শরিয়তেই কুরবানির এই বিধান বিদ্যমান ছিল। মানব সভ্যতার সুদীর্ঘ ইতিহাস থেকে জানা যায়, পৃথিবীর সকল জাতি ও সম্প্রদায়ের মানুষ যুগে যুগে কোনো না কোনো ভাবে আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টির লাভের জন্য তার প্রিয় বস্তু উৎসর্গ করে দিতেন। আর আল্লাহ রব্বুল আলামীনের সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে স্বীয় প্রিয়বস্তু উৎসর্গ করাই হলো আজকের এই কুরবানি। এ কথার প্রমাণে মহান আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে বলেন-

وَلِكُلِّ أُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنْسَكاً لِيَذْكُرُوا اسْمَ اللهِ عَلَى مَا رَزَقَهُمْ مِنْ بَهِيمَةِ الأَنْعَامِ فَإِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ فَلَهُ أَسْلِمُوا وَبَشِّرْ الْمُخْبِتِينَ
প্রত্যেক উম্মতের জন্য আমি কুরবানীর একটি নিয়ম ঠিক করে দিয়েছি, যাতে (সে উম্মতের) লোকেরা সে পশুদের ওপর আল্লাহর নাম নেয় যেগুলো তিনি তাদেরকে দিয়েছেন৷  (এই বিভিন্ন নিয়ম-পদ্ধতির মূল লক্ষ্য কিন্তু এক- আল্লাহর নির্দেশ পালন) কাজেই তোমাদের ইলাহও সে একজনই। তোমরা তাঁরই ফরমানের অনুগত হয়ে যাও৷ আর হে নবী! সুসংবাদ দিয়ে দাও বিনয়ের নীতি অবলম্বন কারীদেরকে। (সুরা হজ : আয়াত ৩৪)।

জাতির পিতা হযরত ইবরাহিম (আ:)-এর বয়স যখন ৮৬ বছর তখন তার বিবি হাজেরার গর্ভে জন্ম গ্রহণ করেন পুত্র সন্তান হযরত ইসমাঈল (আ:)। পিতা হযরত ইবরাহিম (আ:) ইসমাঈল (আ:)-কে নিয়ে কিছুদিন পর এক কঠিন পরীক্ষায় সম্মুখীন হলেন।

আল্লাহ তায়ালা হযরত ইবরাহিম (আ:)-কে স্বপ্নের মাধ্যমে বললেন- ইবরাহিম! তুমি কুরবানি কর। সকালে উঠে তিনি হৃষ্টচিত্তে একশত উট কুরবানি করলেন। কিন্তু পরবর্তী রাতেও তিনি একই স্বপ্ন দেখলেন, আবার তিনি পরের দিন সকালে একশত উট কুরবানি করলেন। তৃতীয় রাতে আবারও স্বপ্ন দেখলেন, আল্লাহ তায়ালা বলেন, ইবরাহিম! তুমি কুরবানি কর। তিনি আরজ করলেন, মা’বুদ! আমি কি কুরবানি করবো? ইরশাদ হলো- তোমার সর্বাপেক্ষা প্রিয় জিনিসটি আমার রাস্তায় উৎসর্গ কর।

অন্য রেওয়ায়েতে নামসহ বলা হয়েছে, এটি জিলহজ্ব মাসের দশ তারিখ রাতের কথা। আগামী দিনই হচ্ছে কুরবানির দিন। সুতরাং তার বুঝতে আর বাকি রইলো না যে, তার প্রিয় সন্তান ইসমাঈলকে কুরবানি দিতে হবে। পরের দিন বিবি হাজেরা (আ.) তার কলিজার টুকরা পুত্রকে গোসল করিয়ে নতুন কাপড়-চোপড় পরিয়ে উত্তম পরিচ্ছেদে আচ্ছাদিত করলেন এবং প্রাণ ভরে চির জীবনের মত বুকে জড়িয়ে আদর সোহাগ করে বললেন, যাও আমার পুত্র! আল্লাহর জন্য নিজেকে উৎসর্গ কর। সে দিনটি ছিল কুরবানির দিন।

প্রথমেই হযরত ইবরাাহিম (আ:) ইসমাঈলকে তার স্বপ্নের কথা বললেন এবং তার কাছ থেকে জবেহের পরামর্শ চাইলেন। বললেন তুুমি ভেবে দেখ তোমার অভিমত কি? কিন্তু সে পুত্র ছিলেন খলিলুল্লারই পুত্র। ইসমাঈল বলে উঠলেন, আল্লাহ তা’আলা আপনাকে যে হুকুম করেছেন, তা পালন করুন। এ মহান কাজে মতামতের কি প্রয়োজন? আব্বাজান! আমার থেকে বড় সৌভাগ্যবান কে আছে যে, নিজ পিতার জবেহের মাধ্যমে আমি মহান আল্লাহর সাথে মিলিত হতে পারবো। আর বিলম্ব নয় আব্বাজান!, এখনই আল্লাহর নাম নিয়ে আমার গলায় ছুরি চালিয়ে দিন। যাতে ইবলিস আমাদের এই খালেস নিয়তকে নষ্ট করার সুযোগ না পায়। কিন্তু আব্বাজান! জবেহের পূর্ব মুহূর্তে আপনি আমার এই প্রার্থনাগুলো মনজুর করুন।


১. আপনি ছুরিটা খুব ধার দিয়ে নিন। আর আমার হাত পা শক্ত করে বাঁধবেন। যাতে আমার অনিচ্ছাকৃত লাফা-লাফিতে আপনার শরীরে আমার পা না লাগে আর রক্তের ছিটা আপনার কাপড়কে নাপাক না করে।

২. আমাকে মাটির দিকে মুখ করিয়ে শোয়াবেন, যেন জবেহ করার সময় আমার চেহারা আপনি না দেখেন। যা জবেহ থেকে বাধা দিবে।

৩. আমার রক্ত মিশ্রিত জামা নিয়ে আম্মাজানের কাছে দিবেন। তাহলে তিনি পুত্রের বিচ্ছেদের যন্ত্রনা লাঘব করতে পারবেন। এক রেওয়ায়েতে আছে যে, ইসমাঈল (আ.) জবেহ করার খবর তার আম্মাকে না দিতে না করেছিলেন। হযরত ইবরাাহিম (আ.) স্বীয় সন্তানের মুখে একথা শুনে আনন্দে অধীর হয়ে ওঠেন এবং আদরের টুকরা সন্তানকে ঐ পাথরের নিকট নিয়ে গেলেন, যেখানে হজের মৌসুমে কুরবানির পশুগুলো মিনা নামক স্থানে নিয়ে জবেহ করা হয়। অতপর হযরত ইসমাঈল (আ.) বললেন, “ইনশাআল্লাহ আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের মধ্যে পাবেন”।

এরপর যখন হযরত ইবরাাহিম (আ:) ছুরিতে শান দিচ্ছিলেন সেই সময় উর্ধ্ব জগতের ফেরেশতাকুলের মাঝে হাহাকার পড়ে গেল। ছুরি ধার দেওয়া হয়ে গেলে ইবরাহিম (আ.) নিজ পুত্রকে কুরবানির জন্তুর মত উপুড় করে শুইয়ে দিলেন। ফেরেশতাদের জগতে তখন সকলে কান্নাকাটি করছে। সৃষ্টিকুলের সবাই একথা জানতে অক্ষম কোন উদ্দেশ্যে মহান আল্লাহ আপন খলিলের মাধ্যমে এরূপ হৃদয় বিদায়ক ঘটনা ঘটাচ্ছেন। এ ব্যপারে আল্লাহই তো ভালো জানেন। এরপর ই নবী ইবরাহিম (আ:) বিদ্যুৎ গতিতে বিসমিল্লাহ বলে ধারালো ছুরি বের করে নিলেন এবং পুত্রের গলায় তা চালিয়ে দিলেন। অন্যদিকে নিজের অজান্তেই আল্লাহর হুকুমে জিবরাঈল (আ:) চিৎকার করে আল্লাহু আকবর বলে উঠলেন। এই সম্বন্ধে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “যখন তারা আত্মসমর্পন করলেন এবং পুত্রকে উপুড় করে শোয়ালেন তখন আমি ডাকলাম হে ইবরাহিম! নিশ্চয়ই আপনি স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছেন, আমি বিশিষ্ট বান্দাদেরকে এরূপ পুরস্কার প্রদান করে থাকি। প্রকৃতপক্ষে ইহা এক বড় পরীক্ষা।” (সূরা আস-সাফফাত।)

এমন মর্মান্তিক দৃশ্যে সমস্ত ফেরেশতাজগত, সুবিশাল মহাশূন্য, ধরণীর নদ-নদী, পাহাড়-পর্বত, পশু পাখি, তরুলতা সবকিছুর মধ্যে এক ঝড় আরম্ভ হয়েছিল। মহাপ্রতাপশালী আল্লাহ বলেন, আমার কিছু সংখ্যক ফেরেশতারা উক্তি করেছিলো, হে প্রভু আপনি ইবরাহিম (আ:)-কে কেন খলিলরূপে আখ্যায়িত করলেন এবং কেন এ হুকুম প্রদান করেছেন? আমি বলেছিলাম! তিনি আমার প্রকৃত খলিল এবং আমার জন্য তার বন্ধুত্ব কতটুকু তা পরীক্ষা করে নিলাম।

ইবরাহিম (আ.) স্বীয় সন্তানের গলায় ছুরি চালাতেই আল্লাহ তা’আলার রহমতের জোশ এসে গেল। আল্লাহ তায়ালা ছুরিকে লক্ষ্য করে হুকুম করলেন- খবরদার ইসমাইলের একটি পশমও যেন না কাটে। আল্লাহর হুকুমে ছুরির কাজে পর্দা পড়ে গেল। কাজ না হওয়ায় ইবরাহিম (আ:) রাগান্বিত হয়ে ছুুরি দূরে নিক্ষেপ করলেন। ফলে ছুরি একটি পাথরে পড়ে পাথর দুই টুকরা হয়ে গেল। সুবহানাল্লাহ!

এরপর মহান আল্লাহ তা’আলা জিবরাঈল (আ:)-কে হুকুম দিলেন, ‘হে জিবরাঈল! তুমি বেহেশত থেকে একটি দুম্বা নিয়ে যাও এবং আমার খলিলকে সালাম দিয়ে ইসমাঈলের পরিবর্তে এটাকে কুরবানি করতে বল। আমি তার কুরবানি কবুল করেছি।’ আল্লাহ পাক বলেন- আমি ইবরাহিমকে যে ফিদিয়া দিয়েছি তা এক শ্রেষ্ঠ কুরবানি। মুফাসসিরগণ লিখেছেন- ইহা সেই দুম্বা যা আদম (আ:)-এর ছেলে হাবিলের কুরবানির দুম্বা ছিল এবং ইহা জান্নাতে সংরক্ষিত ছিল। (তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন)

বিজ্ঞাপন





শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও
© ২০২১ - সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । হক কথা ২৪.নেট
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )