1. faysalislam405@gmail.com : ফয়সাল ইসলাম : ফয়সাল ইসলাম
  2. tajul.islam.jalaly@gmail.com : তাজুল ইসলাম জালালি : তাজুল ইসলাম জালালি
  3. marufshakhawat549@gmail.com : মারুফ হোসেন : মারুফ হোসেন
  4. sheikhmustakikmustak@gmail.com : Sheikh Mustakim Mustak : Sheikh Mustakim Mustak
  5. najmulnayeem5@gmail.com : নাজমুল নাঈম : নাজমুল নাঈম
  6. rj.black.privateboy@gmail.com : rjblack :
  7. saddam.samad.24@gmail.com : সাদ্দাম হোসাইন : সাদ্দাম হোসাইন
  8. samirahmehd1997@gmail.com : Samir Ahmed : Samir Ahmed
রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৫৪ অপরাহ্ন

জরিমানা মাত্রই আধ আনা

সাদ্দাম হোসাইন
  • প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ৯ জুলাই, ২০২১
  • ১০২ বার পড়া হয়েছে
জরিমানা মাত্রই আধ আনা
জরিমানা মাত্রই আধ আনা

তখন ইংরেজি আমল। ঢাকা থেকে এক ছোট শহর। কাজ-কর্ম চাকরি-বাকরি সব কিছুই কলকাতায়। বিয়ের বাজার, রোগীর চিকিৎসা, ছেলের মুসলমানীর দাওয়াতিদের খাওয়ানোর বাজার সদাইয়ের জন্য এমনকি ধনি লোকের মেয়ের নাক-ফোড়ানির উৎসব বা পুতুলের বিয়ের ‘লওয়াজিমা’র ফর্দ নিয়েও কলকাতায় ছুটতে হয়। তো, এক কৃপণ গেরস্ত মেয়ের বিয়ের বাজার করতে কলকাতায় যাচ্ছে।

তখন কলকাতায় যেতে হতো নারায়ণগঞ্জ বা কার্তিকপুর থেকে গোয়লন্দ হয়ে স্টিমারে। কৃপণ গেরস্ত ভাবছিলো, রাস্তাঘাটে খেয়ে আর পয়সা নষ্ট করবে না। কলকাতায় পৌঁছেই একবারে যা হোক কিছু খেয়ে নেবে। কিন্তু সে খেয়াল করেনি যে নদীপথে যাত্রাকালে বাতাস ও নদীর আবহাওয়ায় দ্রুত ক্ষিধা লাগে এবং ক্ষিধাটা চবড় করে বাড়তে থাকে। তাই সে ঘাটের এক হোটেলে ঢুকে পড়ে। কিন্তু কৃপণ লোকটি দেখতে পায় এক বয়রা চিৎকার দিয়ে ওঠে: সামনে চার আনা, তার পেছনে তিন, তার পেছনে সাড়ে ছ’আনা-গুনে বুঝে নিন। তো, আমাদের কৃপণ লোকটাও গেছে, সেই হোটেলে খেতে তার ভয়, ‘হৈটাল’ আলারা গলাকাটা দাম নেয়। তাই এক টেবিল বয়কে জিজ্ঞাসা করে সস্তায় কি কোনো খাওন যায় ক’তো! ভাত খামু। 

বয় : ভাত, নুন পানি—সব চাইতে সস্তা, তিন পয়সা। আর লগে একখান পোড়া সিটি শুকনা মরিচ লইলে এক আধলা বেশি।

কৃপণ লোক : নারে, অত শুকনা ভাত গলা দিয়া যাইব না।

বয় : পানি দুই গেলাস খাইবেন, তাইলেই যাইব।

কৃপণ : আর একটু দামী খাওনের কথা কও বাজান।

বয় : তাইলে ভাত লন, আর ইলশা মাছের সুরা লন, সঙ্গে মাছ লইলে পড়ব ছয় আনা— ধু সুরা আর ডাইল লইলে পড়ব তিন আনা আর এক কাম করবার পারেন—সে ব্যবস্থাও এই হৈটালে আছে।

কৃপণ লোক : কী ব্যবস্থারে বাজান!

বয় : আপনে ভাত আর ইলশা মাছের সুরুয়া লইবেন। আর আপনের সামনে একটা বাটিতে থাকব ফৈর-আলা তেলে ঝোলের একখানা ‘দবজ’ (পুরুষ্ট) পেটি; ভাত খাইবেন ইলশার সুরা দিয়া, তয় ঐ পেটি দেইখ্যা, পেটিই খাইতেছেন মনে কইরা খাইতে পারেন। তাতে আর এক আনা বেশি পড়ব। ঐ এক আনা ‘চোখ লাগানি’র জন্য। যে মানুষটা পরে ঐ পেটি দাম দিয়া কিনা খাইব তার পেট সাথে সাথে গটরমটর করলে আমরা ফ্রি বড়ি সাপ্লাই দেই। হেই বড়ি কিনতে আধ আনা, আর আপনের দেখন সুখ খাওনের চার্জ আধ আনা।   আমাদের কৃপণের এই ব্যবস্থা পছন্দ হয়। সে ‘দেখন সুখ’ খাওয়ার অর্ডার দেয়। আর চার আনা পয়সাও ‘খুতির’ ভিতর থেকে বের করে রাখে খাওয়া শেষে বয় ম্যানেজারের ক্রিং গুনে বলে: তিন নম্বরে দেখন সুখ অলার ড্যামাইজ (ডেমারেজ) চার্জসহ সাড়ে চাইর আনা।  

কৃপণ : কেন, কেন, আধ আনা বেশি কেন? 

বয় : ইলশার পেটিতে যে চাটন দিছ, তা দেখি নাই! তার জন্য জরিমানা মাত্রই আধ আনা। 

বিজ্ঞাপন





শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও
© ২০২১ - সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । হক কথা ২৪.নেট
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )