1. faysalislam405@gmail.com : ফয়সাল ইসলাম : ফয়সাল ইসলাম
  2. tajul.islam.jalaly@gmail.com : তাজুল ইসলাম জালালি : তাজুল ইসলাম জালালি
  3. marufshakhawat549@gmail.com : মারুফ হোসেন : মারুফ হোসেন
  4. najmulnayeem5@gmail.com : নাজমুল নাঈম : নাজমুল নাঈম
  5. saddam.samad.24@gmail.com : সাদ্দাম হোসাইন : সাদ্দাম হোসাইন
বুধবার, ২৯ জুন ২০২২, ০৬:০৬ অপরাহ্ন

জান্নাতের ফুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ১৮ আগস্ট, ২০২১
  • ৩৯২ বার পড়া হয়েছে
জান্নাতের ফুল
জান্নাতের ফুল

ভোর পেরিয়ে শুভ সকালের রক্তিম সূর্যটা উঁকি মারতে মোটেও বিলম্ব হলো না আজ। পূর্ব পাড়ার সারি সারি নারকেল গাছ ভেদ করে সূর্যীমামার কিরণ।
জানালা ফাঁকি দিয়ে ঢুকে পড়েছে রুমে। বিছানায় ঘুমন্ত ছোট্টমণি তারান্নুমের নিষ্পাপ মুখখানিতে আছড়ে পড়েছে তার খানিক আলোকচ্ছটা। মুহুর্তেই ঘুম থেকে লাফিয়ে ওঠে  তারান্নুম।চোখ মুছতে মুছতে বাহিরের সকাল হওয়া টের পায় সে। আম্মুর কড়া নির্দেশে ব্রাশ হাতে ঢুকে পড়ে ওয়াশরুমে।

নাস্তার টেবিলে নাস্তা খেতে বসে তারান্নুম। কিন্ত এ কি আজ কেউ নাস্তা খেতে আসেনি! তারান্নুমের ছোট্ট মনটা খারাপ হয়ে যায়।আম্মুর কাছে জানতে চায়, ‘আম্মু, আব্বু আর দাদু কোথায়, তারা নাস্তা খাবে না? সোনামণির মাথায় হাত বুলিয়ে উত্তর দেয় নাসিমা, ‘আম্মু তুমি খেয়ে নাও। আজ আব্বু, দাদু আমি রোজা রেখেছি।তাই কেউ খাবো না।’ সবার সাথে সকালে নাস্তার টেবিলে বসে তারান্নুম। সবাই আদর করে খাইয়ে দেয়।দাদুর হাতে খেতে খুব ভালো লাগে তার। কিন্ত আজ কেউ না থাকায় একা খেতে তার ভালো লাগে না। পরোটা হাতে নিশ্চুপ হয়ে বসে থাকে সে।মেয়ের এমন অভিমানে নাসিমা আদুরে গলায় বলে, ‘মামুনি!আসো আমি খাইয়ে দি।’
তাতেও তারান্নুমের ছোট্ট মনটা সায় দেয় না। এক দৌঁড়ে চলে যায় বাবার রুমে। ফারুক ল্যাপটপের স্ক্রিনে মগ্ন।রুমে যে মেয়ের আগমন ঘটেছে সেটা তার নজরে পড়েনি। ‘আব্বু!তুমিও কি রোজা ?’ মিষ্টি গলায় প্রশ্ন করতে করতে আব্বুকে জড়িয়ে ধরে তারান্নুম।ফারুক মেয়েকে দেখে মুচকি হেসে ল্যাপটপ বন্ধ করে বলেন-
–হুম!আম্মু, রোজা রাখছি।
–কিসের রোযা রাখছো আব্বু?
–আশুরের রোজা আম্মু।
তারান্নুমের মনে পড়ে আশুরা কথাটা মক্তবে শুনেছে সে। হুজুর আশুরার কত কিচ্ছাই না বলেছে তাদের। তারান্নুম হঠাৎ এমন প্রশ্ন করে বসে যা ফারুকের কল্পনাতীত..
–আচ্ছা বাবা,হোসাইন কে?
–হোসাইন! আমার মামুণি এ নাম কোথায় শুনেছে?
–হুজুর এক কিচ্ছাই বলেছিল আব্বু।
তারান্নুমের মুখে ঈমাম হোসাইনের কথা শুনে থমকে গেল ফারুক। মুহুর্তেই আবেগ,ভালোবাসায় চোখদুটো চলচল হয়ে এল।কারবালার সেই মর্মান্তিক ঘটনা, প্রিয় নবীর কলিজার টুকরা ঈমাম হোসাইনের শাহাদাতের সেই দুর্বিষহ কাহিনী যেন চোখের সামনে ভেসে ওঠল। কিছুক্ষণের জন্য হুশ হারিয়ে কোথায় যেন অদৃশ্য হয়ে গেলেন তিনি। ‘আব্বু বলো না?’হঠাৎ মেয়ের ডাকে তার চেতনা ফিরে। ততক্ষণে চোখের কোণায় দু’ফোটা জল বেয়ে পড়ল। তাড়াতাড়ি মুছে ফেললেন। মেয়েকে বুঝতে দিলেন না কেন তার এ অবস্থা হলো। ছোট্ট মেয়েকে সেটা বলতেও চান না তিনি। এবার মুচকি হেসে তিনি বলতে শুরু করলেন–

‘শোন মামুনি ,হোসাইন আর হাসান হলো আমাদের প্রিয় নবিজি হযরত মুহাম্মদ (সা) এর আদরের নাতি। তারা ছিল ছোট্ট দু’ভাই।নবিজী তাদের খু্ব আদর করতেন,কোলে নিতেন, তাদের সাথে খেলতেন। নবিজি আদর করে দু’ভাইকে পিঠের উপর তুলতেন এবং ঘোড়ার মত হাটাচলা করতেন। এতে তারা খুব খুশি হতো।’এ কথা শুনে তারান্নুম হাসল,’হিহিহি’। মেয়ের মুখে হাসি দেখে ফারুক আরো বলতে লাগলেন, ‘জানো,নবিজি যখন মসজিদে  নামাজ পড়তেন  তখন তারা নবিজির মাথার উপর, ঘাড়ের ওপর ওঠে খেলাধুলা করত।’
তারান্নুম এবার খিলখিল করে হাসতে শুরু করে। ফারুক আবার বললেন,নবিজি বলেছেন, ‘হাসান হোসাইন আমার জানের টুকরা, তারা জান্নাতের ফুল।’
এ কথা শুনে তারান্নুম বলল, ‘আব্বু!আমিও  জান্নাতের ফুল হব। কিভাবে হব বলো না আব্বু।’
মেয়ের এমন ইচ্ছে শুনে ফারুকের মন প্রশান্তিতে ভরে গেল। মেয়েকে বলল, ‘যদি তুমি জান্নাতের ফুল হতে চাও তবে কখনো মিথ্যা কথা বলবে না,সবসময় সত্যকথা বলবে। দুষ্টমি করবে না। বড়দের কথা শুনবে।’
বাবার এমন সদুপদেশে জান্নাতের ফুল হওয়ার এক দূরন্ত  স্বপ্নের দোলাচল আরম্ভ হতে শুরু করে ছোট্ট তারান্নুমের কোমল মনে।

লেখক পরিচিতি
মোহাম্মদ ইমরান
আমিরাবাদ,লোহাগাড়া,চট্টগ্রাম 
জান্নাতের ফুল

বিজ্ঞাপন




One thought on "জান্নাতের ফুল"

  1. মোহাম্মদ ইমরান says:

    ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই সম্পর্কিত আরও
Share via
Copy link
© ২০২২- সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । হক কথা ২৪.নেট
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )
Share via
Copy link