1. faysalislam405@gmail.com : ফয়সাল ইসলাম : ফয়সাল ইসলাম
  2. tajul.islam.jalaly@gmail.com : তাজুল ইসলাম জালালি : তাজুল ইসলাম জালালি
  3. marufshakhawat549@gmail.com : মারুফ হোসেন : মারুফ হোসেন
  4. najmulnayeem5@gmail.com : নাজমুল নাঈম : নাজমুল নাঈম
  5. saddam.samad.24@gmail.com : সাদ্দাম হোসাইন : সাদ্দাম হোসাইন
শুক্রবার, ২৭ মে ২০২২, ০২:০৭ পূর্বাহ্ন

নানামুখী সমস্যায় হাতিরঝিল

সাদ্দাম হোসাইন
  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২২
  • ৫০ বার পড়া হয়েছে
নানামুখী সমস্যায় হাতিরঝিল

রাজধানীর অন্যতম দৃষ্টিনন্দন বিনোদন কেন্দ্র হাতিরঝিল। গত শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, হাতিরঝিলের মধুবাগ, রামপুরা, বেগুনবাড়ীর বিভিন্ন অংশে ফুটপাতের টাইলস, কংক্রিটের ব্লক উঠে গেছে। কয়েকটি অংশ মাটির নিচে দেবে গেছে। ভাঙা দেখা গেছে ঝিলের বিভিন্ন স্থানে বসানো ওয়েস্ট বিনগুলো (ময়লার পাত্র)। ঝিলের পাড়, রাস্তায় ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। বাড্ডা হাতিরঝিল মায়াকুঞ্জ পয়েন্ট থেকে শাহজাদপুর পর্যন্ত পুরো সড়কে শতাধিক সড়কবাতির খুঁটি রয়েছে। প্রতিটি খুঁটিতে তিনটি করে বাতি সংযোগের পয়েন্ট রয়েছে। সে হিসাবে ১০০ খুঁটিতে ৩০০টি বাতি থাকার কথা। কিন্তু সন্ধ্যার পর সড়কটিতে মাত্র ১০টি বাতি জ্বলতে দেখা গেছে। বাতিগুলোর কোনোটি নষ্ট, কোনোটি আবার চুরি হয়ে গেছে। এ ছাড়া সড়কে চক্রাকার সড়কে উল্টোপথে মোটরসাইকেল, সিএনজি চলতে দেখা গেছে। কিন্তু ঝিলটি রক্ষণাবেক্ষণে রাজউকের কাউকে তদারকি করতে দেখা যায়নি।

২০১৩ সালে উদ্বোধনের পর থেকে এর ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করছে সেনাবাহিনীর স্পেশাল ওয়ার্কস অর্গানাইজেশন (এসডব্লিউও)। গত বছরের ৩০ জুন প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দায়িত্ব নেয় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এই দায়িত্বের ছয় মাস পার হতে না হতে হাতিরঝিলের রক্ষণাবেক্ষণে নানা সমস্যার দেখা দিয়েছে। হাতিরঝিলে এখন ৯০ শতাংশ সড়কবাতি নষ্ট, অনেক স্থানে হাঁটাচলার পথে টাইলস-কংক্রিটের ব্লক উঠে গেছে। অধিকাংশ ওয়েস্ট বিন নষ্ট। ঝিলের পাড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে আবর্জনা।

স্থানীয় বাসিন্দা এবং দর্শনার্থীদের অভিযোগ, হাতিরঝিল ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সেনাবাহিনীর কাছ থেকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কাছে যাওয়ার পরই এ অব্যবস্থাপনা দেখা দিয়েছে। এখন ঝিলটি তার সৌন্দর্য হারাতে বসেছে। কিন্তু ঝিলটি যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণের কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না রাজউক।

তবে রাজউক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নান্দনিক হাতিরঝিলটি নগরে যানজট ও জলাবদ্ধতা নিরসন এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। তাই তারা ঝিলটির সৌন্দর্য বা রক্ষণাবেক্ষণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। অর্থ এবং জনবল সংকট থাকায় ঝিলটি ব্যবস্থাপনায় হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে রাজউক, তবে সবকিছু ঠিকঠাক করতে প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে বলে জানালেন রাজউক কর্মকর্তারা।

জানা যায়, ২০০৭ সালের অক্টোবরে হাতিরঝিল প্রকল্প অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। তখন এ প্রকল্পে ব্যয় হয় ১ হাজার ৯৭১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। ২০১৩ সালের ২ জানুয়ারি এই প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের পর থেকে এর ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্পেশাল ওয়ার্কস অর্গানাইজেশন (এসডব্লিউও)। ২০২১ সালের ৩০ জুন প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এরপর হাতিরঝিলের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পায় রাজউক। এরপর কেটেছে ছয় মাসেরও বেশি সময়। কিন্তু প্রকল্প এলাকায় দেখা দিয়েছে নানা দুর্গতি।

হাতিরঝিলের পরিবেশ নিয়ে কথা হয় মধুবাগের প্রবীণ বাসিন্দা ফয়েজ উদ্দিন জানান, প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই লেকে বেড়াতে যায়। ছুটির দিনগুলোতে লাগো মানুষের ভিড় হয় ঝিলে। সেনাবাহিনী যখন তত্ত্বাবধানে ছিল, তখন সেখানে তেমন কোনো সমস্যা ছিল না। এখন ঝিলের সৌন্দর্য হারাতে বসেছে। এককথায় ঝিলটি এখন অনেকটাই নোংরা হয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে রাজউককে তদারকি বাড়াতে হবে।

রাজউক চেয়ারম্যান এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী বলেন, হাতিরঝিলের বেশকিছু ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো সংস্কারের কাজ চলছে। এরই মধ্যে সংস্কারের জন্য সড়ক ও ফুটপাতের টাইলস ও ব্লকগুলো উঠানোর কার্যক্রম চলছে। এ ছাড়া সব ঠিকঠাক করার জন্য একটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। শিগগির কাজ শুরু করা হবে। তিনি বলেন, এখন ঝিল ব্যবস্থাপনায় সব ব্যয় রাজউকের তহবিল থেকেই দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া রাজউকের লোকজন দিয়েই তা তত্ত্বাবধান করা হচ্ছে। তবে পুরো ঝিলটি রক্ষণাবেক্ষণে আরো জনবল দরকার। বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।

নানামুখী সমস্যায় হাতিরঝিল

বিজ্ঞাপন




Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই সম্পর্কিত আরও
Share via
Copy link
© ২০২২- সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । হক কথা ২৪.নেট
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )
Share via
Copy link