1. faysalislam405@gmail.com : ফয়সাল ইসলাম : ফয়সাল ইসলাম
  2. tajul.islam.jalaly@gmail.com : তাজুল ইসলাম জালালি : তাজুল ইসলাম জালালি
  3. marufshakhawat549@gmail.com : মারুফ হোসেন : মারুফ হোসেন
  4. sheikhmustakikmustak@gmail.com : Sheikh Mustakim Mustak : Sheikh Mustakim Mustak
  5. najmulnayeem5@gmail.com : নাজমুল নাঈম : নাজমুল নাঈম
  6. rj.black.privateboy@gmail.com : rjblack :
  7. saddam.samad.24@gmail.com : সাদ্দাম হোসাইন : সাদ্দাম হোসাইন
  8. samirahmehd1997@gmail.com : Samir Ahmed : Samir Ahmed
শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:২৪ পূর্বাহ্ন

পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম কুরবানি…

সাদ্দাম হোসাইন
  • প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ১৬ জুলাই, ২০২১
  • ৭৯ বার পড়া হয়েছে
পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম কুরবানি
পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম কুরবানি…

মুসলিম জাতিরা বছরে দুটি ঈদ পালন করেন। বাৎসরিক দুটো ঈদের একটি হলো ঈদুল আযহা বা কুরবানির ঈদ। এই কুরবানির উৎপত্তি ঘটনাকে আমরা অনেকেই হযরত ইবরাহীম (আ) এর কুরবানির ঘটনা হিসেবে জানি। কিন্তু এর আগেও পৃথিবীতে ভিন্নরূপে কুরবানি ছিল সেটা আমাদের অনেকেরেই অজানা।

ইসলামি মতে কুরবানী হলো একটি নির্দিষ্ট দিনে আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট পশু জবেহ করা। পবিত্র কুরআনের তিনটি স্থানে কুরবানি সম্পর্কে উল্লেখ আছে। একটি হলো পশু কুরবানির ক্ষেত্রে এবং বাকি দুটি সাধারণ ভাবনার কাজ বোঝাতে। যার দ্বারা আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়া যায়। ঈদুল আযহার নির্দিষ্ট দিনের বাইরে নির্দিষ্ট নিয়মে খাওয়ার উদ্দেশ্যে পশুহত্যা করাকে ইসলামে জবেহ বলা হয়ে থাকে।

কুরবানির ইতিহাস অতি প্রাচীন। পৃথিবী সৃষ্টির প্রথম দিক অর্থাৎ হযরত আদম (আ:)-এর ‍যুগ থেকেই কুরবানির প্রচলন শুরু হয়েছে। পৃথিবীতে এমন কোনো জাতি ছিল না, যে জাতিরা নিজ মাযহাব অনুসারে কুরবানি করেনি। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন কুরবানি সম্পর্কে ঘটনা তুলে ধরেছেন-

وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ ابْنَيْ آدَمَ بِالْحَقِّ إِذْ قَرَّبَا قُرْبَاناً فَتُقُبِّلَ مِنْ أَحَدِهِمَا وَلَمْ يُتَقَبَّلْ مِنْ الآخَرِ قَالَ لأَقْتُلَنَّكَ قَالَ إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ اللهُ مِنْ الْمُتَّقِينَ
আপনি তাদেরকে আদমের দুই পুত্রের (হাবিল ও কাবিলের) বাস্তব অবস্থা পাঠ করে শুনান। যখন তারা উভয়েই কিছু উৎসর্গ নিবেদন করেছিল। তখন তাদের একজনের উৎসর্গ গৃহীত হয়েছিল এবং অপরজনের গৃহীত হয়নি। তাদের একজন বললঃ আমি অবশ্যই তোমাকে হত্যা করব। অপরজন বললঃ আল্লাহ ধর্মভীরুদের পক্ষ থেকেই তো গ্রহণ করেন। (সুরা মায়েদা : আয়াত ২৭)।

বিস্তারিত ঘটনাঃ

হযরত আদম ও হাওয়া (আ.) যখন পৃথিবীতে আগমন করেন এবং তাদের সন্তান প্রজনন ও বংশ বিস্তার শুরু হয়, তখন তাদের জোড়া জোড়া (জময) সন্তান জন্মগ্রহণ করত। অর্থাৎ একসাথে একটি পুত্র ও একটি কন্যা। শুধুমাত্র হযরত শীস (আ.) একা ভূমিষ্ঠ হয়েছিলেন। তখন ভাই-বোন ছাড়া আদম (আ.) এর আর কোন সন্তান ছিল না। অথচ ভাই-বোন পরস্পর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে না।

একই গর্ভ থেকে যে যমজ পুত্র ও কন্যা জন্মগ্রহণ করলে, তারা পরস্পর ভাই-বোন হিসেবে গণ্য হবে। তাদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক হারাম। কিন্তু পরবর্তী গর্ভ থেকে জন্মগ্রহনকারী পুত্রের জন্য প্রথম গর্ভ থেকে জন্মগ্রহণকারীনি কন্যা সহোদরা ভাই-বোন হিসেবে গণ্য হবে না। তাদের মধ্যে পরস্পর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া বৈধ। তাই মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা প্রয়োজনের খাতিরে আদম (আ.) এর শরীয়তে পরবর্তী গর্ভ থেকে জন্মগ্রহনকারী পুত্রের জন্য প্রথম গর্ভ থেকে জন্মগ্রহণকারীনি কন্যার বিয়ের নির্দেশ জারি করেন।

তাই সে সময় আদম (আ.) একটি জোড়ার ছেলের সাথে অন্য জোড়ার মেয়ের বিয়ে দিতেন। ঘটনাক্রমে কাবিলের সাথে যে সহোদরা জন্ম নিয়েছিল সে ছিল পরমা সুন্দরী নাম ছিল আকলিমা। কিন্তু হাবিলের সাথে যে সহোদরা জন্ম নিয়েছিল সে দেখতে অতটা সুন্দরী ছিল না। তার নাম ছিল লাওয়ায। বিবাহের সময় হলে শরয়ী নিয়মানুযায়ী হাবিলের সহোদর বোন কাবিলের জন্য নির্ধারণ করা হল। ফলে আদম (আ.) তৎকালীন শরীয়তের আইনের পরিপ্রেক্ষিতে কাবিলের আবদার প্রত্যাখ্যান করলেন এবং তাকে তার নির্দেশ মানতে বললেন। কিন্তু সে মানল না। পরে তাকে শাসন করলেন। তাতেও কোনো লাভ হলো না।

অবশেষে আদম (আ:) চিন্তা ভাবনা করে হাবিল ও কাবিলের মতভেদ দূর করার জন্য বললেন, ‘তোমরা উভয়েই আল্লাহর উদ্দেশ্যে কুরবানী পেশ কর। আল্লাহ তা’আলা যার কুরবানী কবুল করবেন, তার সাথেই আকলিমার বিয়ে হবে।’ সে সময় কুরবানী গৃহীত হওয়ার একটি সুস্পষ্ট নিদর্শন ছিল যে, আকাশ থেকে একটি অগ্নিশিখা এসে সে কুরবানীকে ভষ্মীভূত করে ফেলত। আর যার কুরবানী কবুল হতো না তারটা সেখানেই পড়ে থাকত।

যা-ই হোক, তাদের কুরবানীর পদ্ধতি সম্পর্কে যা জানা যায় তা হলো- কাবিল চাষীর কাজ করত। তাই তিনি গমের শীষ থেকে ভাল ভাল গুলো বের করে বাজে গুলোর একটি আটি কুরবানীর জন্য পেশ করল। আর হাবিল ছিল পশুপালনকারী। তাই সে তার জন্তুর মধ্যে থেকে সবচেয়ে ভালো একটি দুম্বা কুরবানীর জন্য পেশ করল। এরপর নিয়মানুযায়ী আকাশ থেকে একটি অগ্নিশিখা এসে হাবিলের কুরবানীটি ভষ্মীভুত করে দিল। আর কাবিলের কুরবানী যথাস্থানেই পড়ে থাকল। (ফতহুল ক্বাদীরের বর্ণনায় পাওয়া যায় যে, হাবিলের পেশকৃত দুম্বাটি জান্নাতে উঠিয়ে নেয়া হয় এবং তা জান্নাতে বিচরণ করতে থাকে। অবশেষে ইসমাঈল (আ:) কে ঐ দুম্বাটি পাঠিয়ে বাঁচিয়ে দেয়া হয়) ।

হাবিলের দেয়া কুরবানি আল্লাহর দরবারে গৃহীত হলো আর কাবিলেরটি হলো না। কিন্তু আসমানওয়ালার এ সিদ্ধান্ত কাবিল কিছুতেই মানতে পারল না। কাবিলের দুঃখ ও ক্ষোভ আরো বেড়ে গেল। সে আত্মসংবরণ করতে না পেরে প্রকাশ্যে তার ভাই হাবিলকে বলল, ‘আমি অবশ্যই তোমাকে হত্যা করব। হাবিল তখন ক্রোধের জবাবে ক্রোধ প্রদর্শন না করে একটি মার্জিত ও নীতিগত বাক্য উচ্চারণ করে বলেছিল, ‘তিনি মুত্তাক্বীর কর্মই গ্রহণ করেন। সুতরাং তুমি তাক্বওয়ার কর্মই গ্রহণ করো। তুমি তাক্বওয়া অবলম্বন করলে তোমার কুরবানীও আল্লাহর দরবারে গৃহীত হতো। কিন্তু তুমি তা করোনি, তাই তোমার কুরবানী প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। এতে আমার দোষ কোথায়? তবুও এক পর্যায়ে কাবিল ক্রোধে বশবর্তী হয়ে হাবিল কে হত্যা করল। (তাফসীর ইবনু কাসীর, দুররে মনসূর, ফতহুল বায়ান, ৩/৪৫ ও ফতহুল ক্বাদীর, ২/২৮-২৯)

পবিত্র কুরআনুল কারীমে বর্ণিত হাবিল ও কাবিল কর্তৃক সম্পাদিত কুরবানীর এ ঘটনা থেকেই মূলত কুরবানীর ইতিহাসের সূচনা হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা দেখতে পাই, কুরবানী দাতা ‘হাবিল’ মনের ঐকান্তিক আগ্রহ সহকারে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের আশায় একটি সুন্দর দুম্বা কুরবানী হিসেবে পেশ করেন। ফলে তার কুরবানী আল্লাহ তা’আলার কাছে কবুল হয়। পক্ষান্তরে ‘কাবিল’ অমনোযোগী অবস্থায় কিছু খাদ্যশস্য কুরবানী হিসেবে পেশ করে। ফলে তার কুরবানী কবুল হয়নি। সুতরাং প্রমাণিত হলো কুরবানী মনের ঐকান্তিক আগ্রহ ছাড়া কবুল হয় না। তারপর থেকে বিগত সকল উম্মতের উপরে এটা জারি ছিল। আল্লাহ তা‘আলা বলেন

وَلِكُلِّ أُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنْسَكاً لِيَذْكُرُوا اسْمَ اللهِ عَلَى مَا رَزَقَهُمْ مِنْ بَهِيمَةِ الأَنْعَامِ فَإِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ فَلَهُ أَسْلِمُوا وَبَشِّرْ الْمُخْبِتِينَ অর্থঃ প্রত্যেক উম্মতের জন্য আমি কুরবানীর একটি নিয়ম ঠিক করে দিয়েছি, যাতে (সে উম্মতের) লোকেরা সে পশুদের ওপর আল্লাহর নাম নেয় যেগুলো তিনি তাদেরকে দিয়েছেন৷  (এই বিভিন্ন নিয়ম-পদ্ধতির মূল লক্ষ্য কিন্তু এক- আল্লাহর নির্দেশ পালন) কাজেই তোমাদের ইলাহও সে একজনই। তোমরা তাঁরই ফরমানের অনুগত হয়ে যাও৷ আর হে নবী! সুসংবাদ দিয়ে দাও বিনয়ের নীতি অবলম্বন কারীদেরকে। (সুরা হজ : আয়াত ৩৪)।

হযরত আদম (আ:) এর যুগে তারই পুত্র হাবিল ও কাবিলের কুরবানীর পর থেকে ইবরাহীম (আ.) পর্যন্ত কুরবানী চলতে থাকে। আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে মানবজাতির জন্য যত শরীয়ত নাযিল হয়েছে, প্রত্যেক শরীয়তের মধ্যেই কুরবানীর বিধান জারি ছিল। প্রত্যেক উম্মতের ইবাদতের কুরবানি ছিল একটি অপরিহার্য অংশ।

কুরবানী করার সময় হলো জিলহজ্জ মাসের ১০ তারিখ সকাল থেকে ১৩ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত। একমাত্র আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মুসলমানগণ কুরবানি করে থাকেন। কুরবানী এমন একটি ইবাদত যার বিধান প্রথম মানব হযরত আদম (আ.) এর যুগ থেকেই চলে আসছে। একমাত্র আল্লাহর জন্য সাধ্যের মধ্যে উৎকৃষ্ট পশু দিয়ে কুরবানি করতে হবে।

বিজ্ঞাপন





শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও
© ২০২১ - সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । হক কথা ২৪.নেট
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )