1. faysalislam405@gmail.com : ফয়সাল ইসলাম : ফয়সাল ইসলাম
  2. tajul.islam.jalaly@gmail.com : তাজুল ইসলাম জালালি : তাজুল ইসলাম জালালি
  3. marufshakhawat549@gmail.com : মারুফ হোসেন : মারুফ হোসেন
  4. sheikhmustakikmustak@gmail.com : Sheikh Mustakim Mustak : Sheikh Mustakim Mustak
  5. najmulnayeem5@gmail.com : নাজমুল নাঈম : নাজমুল নাঈম
  6. rj.black.privateboy@gmail.com : rjblack :
  7. saddam.samad.24@gmail.com : সাদ্দাম হোসাইন : সাদ্দাম হোসাইন
  8. samirahmehd1997@gmail.com : Samir Ahmed : Samir Ahmed
মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:০৪ অপরাহ্ন

ভাঙ্গা হচ্ছে সংসার, আটকাচ্ছে পরিবার, জীবন হলো ছাড়খার

সাদ্দাম হোসাইন
  • প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ৬ জুলাই, ২০২১
  • ৬২ বার পড়া হয়েছে
চায়ের কেটলি জব্দ
চায়ের কেটলি জব্দ

লকডাউনে সবকিছু বন্ধ রাখার নির্দেশ আছে। কিন্তু এর মধ্যেও চায়ের দোকান খোলা রাখায় নাটোরের নলডাঙা থানার পুলিশ অনেকগুলো চায়ের কেটলি জব্দ করেছেন। অনেক জায়গায় রিকশা উল্টিয়ে রাখার ছবি দেখা গেছে। কিছুদিন আগে অনেক অটো রিকশা ভেঙ্গে চুরমার করে ফেলা হয়েছে। দিনমজুরেরা এক মুঠো খাবারের খোঁজে বের হওয়ায় কান ধরে ওঠবস করানো হচ্ছে। আসলে কেটলি নয়, আটক করা হয়েছে হাজারো পরিবারের আয়ের উৎস, রিকশা নয় ভাঙচুর হয়েছে সংসারের খাদ্য যোগানের যন্ত্র। আসলে বলা যায়, লকডাউন না মানার কারণে ২০টি সংসার আটক করা হয়েছে, কয়েক শ পরিবারকে ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে, টেনেহিঁচড়ে চলছে তাদের জীবন, হাসপাতালে করা হয়েছে মৃত্যুর সুবন্দোবস্ত।

বলা হচ্ছে, সবই করা হয়েছে করোনা সংক্রমণ ঠেকানোর লকডাউন বাস্তবায়নের জন্য। এ কথা বলা বলা হচ্ছে না যে, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার গাফিলতি আর সরকারি অদূরদর্শিতার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এবারের লকডাউন দেওয়ার আগে দীর্ঘ সময় হাতে ছিল। শুধু ঢাকার শহর নয়, বড় শহরগুলোও অনেক মানুষের জন্য ভাতের এখন হোটেল ছাড়া আর কিছুই না। কিন্তু সেই রাজধানী ঢাকাতেই সঞ্চয়হীন দরিদ্র মানুষকে কোনোরকম সাহায্য ছাড়াই ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। যাকে বলা যায় আটকে রাখা।

এটা ঠিক যে, করোনার সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য লকডাউনের কোনো বিকল্প নেই। সময়ে–সময়ে এটা দরকার। কিন্তু সেটা হতে হবে পূর্বপরিকল্পিত ভাবে। ত্রাণ ও সাহায্য ছাড়া সঞ্চয়হীন গরিব অসহায় খেটে খাওয়া মানুষকে লম্বা সময় ধরে ঘরবন্দী করে রাখা যায় না। যাদের ঘরই নেই বা যেটুকুই আছে তা খুপরির সমান, আসলেই কি তাদের ঘরে থাকার কোনো উপায় আছে?

কেরানীগঞ্জের একজন কৃষক রহমান মিয়া বলছিলেন, ‘যারা রিকশা চালাইয়া খায় তাগো কাছে কি কিছু জমা থাহে? এমুন চললে এরা ছুরি নিয়া রাস্তায় বাইর হইতে বাধ্য হইবো, সন্ধ্যার পরে ছিনতাই করার লাইগা বাইর হইবো।’ নবাবগঞ্জের সিংজুড় বাজারের আব্দুল খালেক চিশতী আগে ভ্যানে করে মেলায় প্লাস্টিকের খেলনা বেঁচতেন। তিনি গত দুই বছর ধরেই ঘরে বসা। মেলা বন্ধ, ওরসও হয় না। শেষে রাস্তার পাশে দোকান সাজিয়ে বসেছেন। কিন্তু ছোট্ট গ্রামের মধ্যে কে খেলনা কিনবে? বাড়িতে তাঁর তিন ছেলে, এক স্ত্রী। প্রতিদিনের ভরণপোষণ কীভাবে চালাবেন? তাঁর বাড়িতে খাজা বাবার দরবার ছিল। এলাকায় আলাদা সম্মান পেতেন। দোকানে আগে বাকিও পেতেন। এখন আর দেয় না কেউ।

ধনী বেড়েছে, বেড়েছে টাকা পাচার। বেড়েছে মানুষের জীবন নিয়ে খেলা, নিষ্ঠুর উদাসীনতা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা। কী বিস্ময়কর বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও অন্যান্য ভাতার পরিমাণ জনপ্রতি ৫০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে। এটা কি বিশ্বাস হয়? এই স্যাটেলাইট উন্নয়নের যুগে কারও কি ৫০০-৮০০ টাকায় চলতে পারে? সরকারি প্রতিবেদনই বলছে, অযোগ্য হয়েও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির ভাতা নেন ৪৬ শতাংশ সুবিধাভোগী। এই ডিজিটাল বাংলাদেশে জনসংখ্যার সঠিক ডেটাবেইস নেই। ফলে অনিয়ম ও চুরির সুযোগ সকল জায়গায়ই বাড়ছে।

আগামী দিনগুলোতে এই মহামারি করোনার কারণে বাংলাদেশ ১৬ লাখ মানুষ তাদের কর্মসংস্থান হারাতে পারে। আগামী দিনের প্রস্তুতির কী অবস্থা? গত বছরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত পোশাকশিল্পে ৭০ হাজার কর্মসংস্থান হারিয়ে গেছে এবং গত বছরের শেষ পর্যন্ত ১০ লাখ কর্মসংস্থান হারিয়ে যাওয়ার কথা। বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে প্রায় ২০ লাখ কর্মী, যার মধ্যে বেশির ভাগই নারী কাজ হারাতে পারেন। প্রায় ৫ কোটি মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীন থাকবেন। জাতিসংঘের মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন দপ্তর এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির সাবেক পরিচালক অর্থনীতিবিদ সেলিম জাহান এসব তথ্য বলেছেন।

এ নিয়ে কি কোনো প্রকার রূপরেখা–রোডম্যাপ ইত্যাদি হয়েছে? সেলিম জাহান মনে করেন, অভুক্ত পরিবারগুলোর এক মাসের খাদ্য সুরক্ষার জন্য ৬ হাজার কোটি টাকা লাগবে বলে প্রাক্কলিত হয়েছে। এভাবে আগামী ছয় মাসের জন্য লাগবে ৩৬ হাজার কোটি টাকা, অর্থনৈতিক প্রণোদনার জন্য বরাদ্দ টাকা থেকে এর অর্থায়ন করা যেতে পারে।

দেশের সরকারও ত্রাণ ও সহায়তা ছাড়া লকডাউন চালাতে পারে না, এমনকি চায়ও না। যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান ইউনিভার্সিটির নওমি হাসান, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের মির্জা হাসান ও ক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. তারিক ওমর আলী গত বছরের লকডাউনের অভিজ্ঞতা নিয়ে গবেষণা করেছেন। আমাদের জন্য প্রাসঙ্গিক যে সিদ্ধান্তে তাঁরা পৌঁছেছেন, তা হলো বাংলাদেশের নাগরিকেরা প্রথমে স্বেচ্ছায়ই লকডাউনের নিয়ম মেনে চলেছিল। পরে এই অল্প সময়ের মধ্যে তারা দেখল যে, সরকারি ত্রাণ ব্যবস্থা অস্বচ্ছ ও অকার্যকর। তখন প্রশাসনকে লকডাউনের কড়াকড়ি উঠিয়ে নিতে দেখা গেল এবং নীতিনির্ধারকেরাও নীরবে এই নীতি থেকে সরে এলেন।

এবার আবারো সেই আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। রাষ্ট্র সংকটে নাগরিকদের যখন সুরক্ষা দেওয়া হয় তখনই রাষ্ট্রের কোনো পদক্ষেপের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে। সেই সুরক্ষা দিতে না পারলে জনবিক্ষোভ এড়াতে আবার সব শিথিল করা হবে। ইতিমধ্যে তার আলামতও দেখা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের এত এত জরিমানা, এত হয়রানির শিকার, ধরপাকড়ের পরও ‘চতুর্থ দিনে রাস্তায় গাড়ি-মানুষ-রিকশা কিছুটা বেড়েছে’। ভাত দিতে না পারলে কিল মারার গোঁসাই হওয়ার দুর্বুদ্ধি কেউ করবে না। কিন্তু মূল প্রশ্নের তো মীমাংসা হলো না! টিকা, অক্সিজেন, হাসপাতালের বেড, লকডাউন এবং অর্থনৈতিক সহায়তা ছাড়া কীভাবে মহামারির মহামৃত্যু ও মহাক্ষুধা ঠেকানো যাবে?

লকডাউন হলো এক দুধারি তলোয়ার। এক দিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাতে কঠোর হতে হবে হবে, অন্য দিকে মানুষ যাতে তা মেনে চলতে পারে, সে জন্য তাদের সুরক্ষা দিতে হবে। একটি ছাড়া অন্যটি অচল।

বিজ্ঞাপন





শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও
© ২০২১ - সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । হক কথা ২৪.নেট
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )