● সোমবার, জুলাই 22, 2024 | 04:36 অপরাহ্ন

রমজান মাসের বার্তা নিয়ে হাজির রজব

রমজান মাসের বার্তা নিয়ে হাজির রজব

মাহে রমজানে প্রবেশের প্রধান প্রবেশদ্বার হচ্ছে মাহে রজব। শাহী মহলের প্রধান ফটকে পৌঁছে মানুষ নিজেকে যেভাবে গুছিয়ে প্রস্তুত করে নেয়, ঠিক তদ্রুপ খালিছ তাওবা করে গোনাহমুক্ত হয়ে এ মাস থেকেই রমজানের রহমত ও বরকত লাভের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। রজব ও শাবান এ দুটি মাস গড়ালেই শুরু হবে সিয়াম সাধনার মাস রমজান।

কুরআন মাজীদে যে চারটি মাসকে আশহুরে হুরুম তথা সম্মানিত মাস বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে, মাহে রজব তার অন্যতম। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালার বিধান মতে আল্লাহর নিকট মাসের সংখ্যা বার মাস সেই দিন হতে যেই দিন তিনি আকাশ মণ্ডল এবং পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, তন্মধ্যে চারটি সম্মানিত। এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান। সুতরাং তোমরা এ মাসগুলোর সম্মান বিনষ্ট করে নিজেদের প্রতি অত্যাচার করো না। (সূরা-তাওবা ৩৬)

এমনিভাবে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, এক বছরে বার মাস। তন্মধ্যে চারটি মাস বিশেষ তাৎপর্যের অধিকারী। তিনটি মাস ধারাবাহিক, যথা- জিলক্বাদ, জিলহজ ও মুহাররম এবং চতুর্থ মাস হচ্ছে জুমাদাল উখরা ও শাবানের মধ্যবর্তী রজব মাস। (বুখারী, মুসলিম) মাহে রজব অত্যন্ত বরকতময় ও মর্যাদাবান মাস। এ মাসের ফজীলতের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, তা আশহুরে হুরুম তথা সম্মানিত মাস সমূহের অন্তর্ভূক্ত। তাছাড়া রাসূলুল্লাহ সা. এর ঐতিহাসিক মি’রাজ এ মাসেই সংঘটিত হয়েছিল।

অন্যান্য মাসের মতো রজব মাসের জন্য বিশেষ কিছু নফল আমল রয়েছে, যা আমল করলে আমরা জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি লাভ করতে পারি এবং জান্নাত লাভের পথ সুগম হবে।

হাদিস পাঠে জানা যায়, যখন রজব মাস শুরু হত, তখন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) দুই হাত তুলে দোয়া পাঠ করতেন এবং সাহাবাদের পড়তে বলতেন, ‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রজবাও ওয়া শাবানা ওয়া বাল্লিগনা ইলা শাহরির রমাদান’ (মসনদে আহমদ)। 

অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি আমাদের জন্য রজব ও শাবান মাসে বরকত দাও এবং আমাদেরকে রমজান পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দাও। তাই বলা যায় মুমিন মুত্তাকিরা সম্মানিত রজব মাস থেকেই পবিত্র মাহে রমজানের প্রস্তুতি নিতে থাকেন। 

আবু বকর ওয়াররাক বলখী রহ. বলেন, রজব মাস ফসল রোপণের মাস। শাবান মাস ফসলে পানি সেচ দেওয়ার মাস আর রমজান হলো ফসল ঘরে তোলার মাস। তিনি আরো বলেন, রজব মাস ঠান্ডা বাতাসের মতো, শাবান মাস মেঘমালার মতো আর রমজান মাস হলো বৃষ্টির মতো। (লাতায়িফুল মা’আরিফ) যেসব মানুষ ফসলের বীজ রোপণ না করবে তাদের যেমন ফসল ঘরে তোলা অসম্ভব, তেমনিভাবে যারা এ মাস থেকেই পাশবিক শক্তির উপর রূহানী বা আধ্যাত্মিক শক্তিকে উজ্জীবিত করার চেষ্টা মুজাহাদা না করবে, তারা রমজান মাসে আমলের পরিপূর্ণ ফসল ঘরে তুলতে পারবে না।

তাই রজব মাস থেকেই শুরু করতে হবে মাহে রমজানের সার্বিক প্রস্তুতি।

এই সম্পর্কিত আরও

কাবার চাবি
বিস্তারিত...
হজ-2025
বিস্তারিত...
খিলাফত
বিস্তারিত...
office-course
বিস্তারিত...
আবুল কালাম
বিস্তারিত...
সৌদি আরবে ঈদের তারিখ ঘোষণা
বিস্তারিত...