● বুধবার, মে 22, 2024 | 12:11 অপরাহ্ন

শবে বরাতের ফজিলত ও তাৎপর্য

শবে বরাতের ফজিলত ও তাৎপর্য

শবে বরাতের কথা আমরা সবাই জানি। কিন্তু এর ফজিলত এবং তাৎপর্য সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই সঠিক তথ্য জানা নেই।

কুরআনে এসেছে যে, ‘হা-মিম! শপথ! উজ্জ্বল কিতাবের, নিশ্চয়ই আমি তা নাজিল করেছি এক বরকতময় রাতে; নিশ্চয়ই আমি ছিলাম সতর্ককারী। যাতে সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ধারিত হয়। এ নির্দেশ আমার তরফ থেকে, নিশ্চয়ই আমিই দূত পাঠিয়ে থাকি।’ (সুরা-৪৪ দুখান, আয়াত: ১-৫)।

হাদিস শরিফে আছে, ‘হজরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা:) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা:) বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা অর্ধ শাবানের রাতে মাখলুকাতের দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া আর সবাইকে ক্ষমা করে দেন।’ (ইবনে হিব্বান: ৫৬৬৫, ইবনে মাজাহ: ১৩৯০, রাজিন: ২০৪৮; ইবনে খুজাইমা, কিতাবুত তাওহিদ, পৃষ্ঠা: ১৩৬, মুসনাদে আহমদ, চতুর্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৭৬)।

হজরত আয়শা (রা:) থেকে বর্ণিত হয়েছে: রাসুলুল্লাহ (সা:)-এই রাতে মদিনার কবরস্থান ‘জান্নাতুল বাকি’তে এসে মৃতদের জন্য দোয়া ও ইস্তিগফার করতেন। তিনি আরও বলেন, নবীজি (সা:) তাঁকে বলেছেন, এ রাতে আল্লাহ তা’আলা বনি কালবের ভেড়া–বকরির পশমের (সংখ্যার পরিমাণের) চেয়েও বেশিসংখ্যক গুনাহগারকে ক্ষমা করে দেন। (তিরমিজি: ৭৩৯)।

নবী করিম (সা:) বলেছেন, ১৪ শাবান দিবাগত রাত যখন আসে, তখন তোমরা এ রাত ইবাদত–বন্দেগিতে কাটাও এবং দিনের বেলায় রোজা রাখো। কেননা, এদিন সূর্যাস্তের পর আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন এবং আহ্বান করেন, ‘কোনো ক্ষমাপ্রার্থী আছো কি? আমি ক্ষমা করব; কোনো রিজিক প্রার্থী আছ কি? আমি রিজিক দেব; আছ কি কোনো বিপদগ্রস্ত? আমি উদ্ধার করব।’ এভাবে ভোর পর্যন্ত আল্লাহ মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে আহ্বান করতে থাকেন। (ইবনে মাজাহ: ১৩৮৪)।

রাসুল (সা:) রমজান মাসের পর রজব-শাবান মাসে বেশি নফল নামাজ ও নফল রোজা পালন করতেন, শাবান মাসে কখনো ১০টি, কখনো ১৫টি, কখনো ২০টি নফল রোজা, কখনো আরও বেশি রাখতেন। এমনকি উম্মুহাতুল মুমিনিনগণ বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসে এভাবে নফল রোজা রাখা শুরু করতেন, মনে হতো, তিনি আর কখনো রোজা ছাড়বেন না। (মুসলিম)

শবে বরাতের রাতে যত ইবাদত করা হবে ততই মঙ্গল হবে। কিন্তু সব ইবাদত হতে হবে একমাত্র আল্লাহকে সন্তুষ্টি করার উদ্দেশ্যে। মহান আল্লাহর নিকট অতীত গুনাহের জন্য ক্ষমা এবং ভবিষ্যতে পাপ থেকে মুক্ত থাকার জন্য দোয়া করতে হবে। সুতরাং এই রাতে বেশি বেশি নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, নফল রোজা, জিকির-আজগার, দান সদকাসহ বিভিন্ন ইবাদত বন্দেগী করা উচিত।

এই সম্পর্কিত আরও

আবুল কালাম
বিস্তারিত...
 আরবে ঈদের তারিখ ঘোষণা
বিস্তারিত...
রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান
বিস্তারিত...
813788_175
বিস্তারিত...
জান্নাতের ফুল
বিস্তারিত...
যেদিন আশুরা
বিস্তারিত...