● বুধবার, মে 22, 2024 | 11:25 পূর্বাহ্ন

শীতকালীন সবজি

শীতকালীন সবজির গুনাগুণ

এখন শীতকাল। আর তাই বাজারে এসেছে শীতের সবজি। আমাদের দেশে শীতকালে সব রকমের সবজি পাওয়া যায়। মৌসুম অনুযায়ী শীত মৌসুমে যে সবজি পাওয়া যায় তার অর্ধেকও অন্য সময় পাওয়া যায় না। এ সময়ে সবজির পুষ্টিগুণও থাকে বেশি। দামও হাতের নাগালে।

শীতকালীন সবজিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন থাকে। থাকে এন্টি অক্সিডেন্ট উপাদানও। শীতে সুস্থ ও সুন্দর থাকার জন্য আমাদের এসব সবজি গ্রহণ করা উচিত। শাক-সবজির এই এন্টি অক্সিডেন্ট আমাদের ত্বক সজীব রাখতে সহায়তা করে। হৃদরোগ প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখে। শীতকালীন এ সবজিতে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে, যা শরীরের পানির ঘাটতি পূরণ করে।

সারাদিনের কর্মব্যস্ত জীবনে শরীরের দিকে খেয়াল রাখার সময় পাওয়া যায় না। নানারকম ভেজাল খাবার খেয়ে আমাদের শরীরে নানারকম রোগব্যাধি হচ্ছে। এই ভেজাল খাবার খেয়ে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও ক্যান্সারের মতো ভয়াবহ রোগ দেখা দেয়।

আমরা সকলেই যদি একটু সচেতন হয়ে চলি, ভেজাল ফাস্টফুড ও প্রক্রিয়াজাতকৃত খাবার এড়িয়ে চলি তাহলেই সুস্থ থাকা সম্ভব। আমাদের দৈনন্দিন খাবার তালিকায় কিছু পরিবর্তন এনে শীতকালীন সবজি ও ফলমূল যোগ করতে পারি। এই তাজা শাক-সবজি আমাদের সুস্থ জীবনের সঙ্গী। পানিসমৃদ্ধ এই শীতকালীন সবজি গ্রহণে আমরা অনেক রোগব্যাধি থেকে মুক্তি পেতে পারি।

ফুলকপি

শীতকালীন সবজির কথা বলতে গেলে প্রথমেই আসে ফুলকপির নাম। নানা পুষ্টিগুণে ভরপুর ফুলকপি। ফুলকপিতে রয়েছে ভিটামিন সি, এ, ডি ও কে। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও লৌহ। ফুলকপি ক্যান্সার প্রতিরোধ করে, ক্যান্সার প্রতিরোধে ফুলকপির বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। ফুলকপিতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ হয়। এছাড়া এতে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা উচ্চ রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণ করে। তাই রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ফুলকপি খাওয়া প্রয়োজন।

বাঁধাকপি

শীতকালীন সবজি বাঁধাকপি। আমাদের দেশে এটিকে পাতাকপি নামেও বলে থাকে। বাঁধাকপিতে রয়েছে ভিটামিন সি ও কে। বাঁধাকপির পাতা নানা পুষ্টিগুণে ভরপুর। বাঁধাকপিতে রয়েছে ক্যান্সার প্রতিরোধী উপাদান। এই সবজি ক্যান্সার সৃষ্টিকারী টিউমার বৃদ্ধি রোধ করে। কিডনি সমস্যার জন্যও অনেক চিকিৎসক বাঁধাকপি খেতে পরামর্শ দেন। বাঁধাকপি চুল পড়া রোধেও কার্যকরী।

গাজর

সালাদ ও মিক্সড সবজিতে গাজরের চাহিদা ব্যাপক। গাজরে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ। এর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও অনেক। গাজর চোখের দৃষ্টি ও ত্বকের জন্য অনেক উপকারী। হার্টের সমস্যা সমাধানে গাজর ভূমিকা রাখে। তাই যাদের হার্টে সমস্যা আছে তাদের জন্য গাজর বেশ উপকারী। যাদের কোলেস্টেরল বেশি তারাও গাজর খেতে পারেন। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে গাজরের ভূমিকা আছে। গাজরের ভিটামিন ও মিনারেল ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

শিম

শিম শীতকালীন সবজির মধ্যে খুবই জনপ্রিয়। শিমে যথেষ্ট পরিমাণ ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন এ, বি ও সি থাকে। শিম আমাদের দেহের পুষ্টির চাহিদা অনেকাংশে পূরণ করে থাকে। শিমে চুল পরা কমাতে সাহায্য করে ও চুল ভালো থাকে। গর্ভবতী নারী ও শিশুদের অপুষ্টি রোধ করে। শিমের বিচি হৃদরোগে আক্রান্তকারীদের জন্য উপকারী।

টমেটো

শীতকালীন সবজির পুষ্টিগুণের তালিকায় প্রথম সারিতেই টমেটো। শরীরের নানা রোগ প্রতিরোধের পাশাপাশি সৌন্দর্য চর্চাতেও ব্যবহূত হয় এ টমেটো। পাকা টমেটোতে আছে ভিটামিন সি। এর ক্যালসিয়াম দাঁত ও হাড়ের সুস্থতায় কাজ করে। টমেটো ফুসফুস ও যকৃতের ক্যান্সার প্রতিরোধে পানিশূন্যতা রোধে সাহায্য করে।

পালংশাক

পালংশাক কম বেশি সবারই প্রিয়। শীত মৌসুম ছাড়াও এ শাক সবসময় পাওয়া যায়। তবে শীতকালে এটি বেশি পাওয়া যায়। এই শাকে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ। পালংশাক খেলে শরীর সুস্থ থাকে। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এই শাক উপকারী। পালংশাকের সবচেয়ে বড় গুণ হলো শরীর ঠাণ্ডা রাখে।

এই সম্পর্কিত আরও

আবুল কালাম
বিস্তারিত...
 আরবে ঈদের তারিখ ঘোষণা
বিস্তারিত...
রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান
বিস্তারিত...
813788_175
বিস্তারিত...
জান্নাতের ফুল
বিস্তারিত...
Muhammad (sm.)
বিস্তারিত...