1. faysalislam405@gmail.com : ফয়সাল ইসলাম : ফয়সাল ইসলাম
  2. tajul.islam.jalaly@gmail.com : তাজুল ইসলাম জালালি : তাজুল ইসলাম জালালি
  3. marufshakhawat549@gmail.com : মারুফ হোসেন : মারুফ হোসেন
  4. najmulnayeem5@gmail.com : নাজমুল নাঈম : নাজমুল নাঈম
  5. saddam.samad.24@gmail.com : সাদ্দাম হোসাইন : সাদ্দাম হোসাইন
মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২২, ০৪:২৬ অপরাহ্ন

সূরা ফাতিহার সংক্ষিপ্ত তফসির

মোঃ মারুফ হোসেন
  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ৩০ বার পড়া হয়েছে
সূরা ফাতিহা
সূরা ফাতিহা

মহাগ্রন্থ আল কুরআন। যার প্রতি হরফে হরফে রয়েছে হিকমত তথা প্রজ্ঞাপূর্ণ নিদর্শন। কুরআনকে যেভাবেই তিলাওয়াত করুন না কেন, অধ্যয়ন করুন না কেন, শুধু বিস্ময়ে ভরা এই অপার গ্রন্থ। যা এর পাঠককে কখনও ত্যক্ত-বিরক্ত করে না বরং তিলাওয়াতে আরো আকষর্ণ বাড়িয়ে দেয়। যতই তিলাওয়াত করুন আরো তিলাওয়াত করতে মন চায়। চাই অর্থ বুঝুন আর না বুঝুন। এটা আল্লাহর এক অপার মহিমা এবং কুদরতের নির্দশন। জাগো নিউজের পাঠকদের জন্য  নিয়মিত ন্যূনতম একটি আয়াত বা একটি সূরার আলোচনা তুলে ধরা হবে। ইনশাআল্লাহ। আজকের সূরা ‘সূরা আল-ফাতিহা।

১. নামকরণ :
ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন, সূরাটির নাম ‘উম্মুল কিতাব’। যা এজন্য রাখা হয়েছে যে, এই সূরার মাধ্যমেই পবিত্র কুরআনের সংকলন কার্য শুরু করা হয়েছে এবং এই সূরা পাঠের মাধ্যমে ছালাত শুরু করা হয়ে থাকে। (বুখারি) সূরা ফাতিহাকে উম্মুল কুরআন এজন্য বলা হয়েছে যে, এটা দিয়েই কুরআন শুরু হয়েছে এবং এর মধ্যে কুরআনের সমস্ত ইলম বা জ্ঞান শামিল রয়েছে’ (কুরতুবী) সূরা ফাতিহার স্বাতন্ত্র্য ও বৈশিষ্ট্যের আর একটি দিক এই যে, আলোচ্য সূরাটির গুরুত্ব মানব জীবনের সব দিকে এতই বেশী পরিব্যপ্ত যে, সম্মানিত তাফসীরকারগণ আলোচ্য সূরাটির প্রায় ৪২টি নাম দিয়েছেন। যে নামগুলো তাফসীর ইবনু কাসীর, ইবনু জারীর, রুহুল মায়ানী, তাফসীর কবীর, তাফসীর খাযিন, তাফসীরে ফাতহুল ক্বাদীর, তাফসীরে কুরতুবীসহ নির্ভরযোগ্য তাফসিরের কিতাবসমূহে উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে তার কয়েকটি তুলে ধরা হলো- (১) سورة مفتاح القرآن কুরআনের কুঞ্জিকা, (২) سورة أم القرآن কুরআনের মা বা আসল, (৩) سورة الدعاء  দোয়ার সূরা, (৪) سورة الشفاء রোগ মুক্তির সূরা, (৫) سورة الحمد প্রশংসার সূরা, (৬) أساس القرآن কুরআনের ভিত্তি, (৭) سورة الرحمة রাহমাতের সূরা, (৮) سورة البركة বারকাতের সূরা, (৯) سورة النعمة নিয়ামাতের সূরা, (১০) سورة العبادة ‘ইবাদাতের সূরা, (১১) سورة الهداية হিদায়াত প্রাপ্তির সূরা, (১২) سورة الإسةقامة দৃঢ়তার সূরা, (১৩) سورة الإسةعانة সাহায্য প্রার্থনার সূরা, (১৪) سورة الكافية অত্যধিক ও বিপুলতা দানকারী সূরা, (১৫) سورة الوافية পূর্ণত্ব প্রাপ্ত সূরা, (১৬) سورة الكنـز খণির সূরা (জ্ঞানের খনি, রাহমাত, বারাকাত, নি‘আমাত ও যাবতীয় সাফল্যের খণি বলে এ সূরাকে আখ্যায়িত করা হয়েছে), (১৭) سورة الشكر শুকর করার সূরা বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সূরা (১৮) سورة الصبر সবরের উৎসাহ দানকারী সূরা, (১৯) سورة التكرار বার বার পঠিতব্য সূরা, (২০) سورة التعلق مع الله আল্লাহর সাথে বান্দার গভীর সম্পর্ক স্থাপনের সূরা, (২১) سورة الصراط المستقيم সরল সঠিক পথ লাভের সূরা, (২২) سورة الربوبية প্রভুত্ব সনাক্ত করণের সূরা, (২৩) سورة الوحدانية আল্লাহ তাআলার একত্ববাদের প্রতি স্বীকৃতি প্রকাশের সূরা, (২৪) سورة الاجةناب الغضب والضلالة আল্লাহর গযব ও গোমরাহি হতে আত্মরক্ষা করার সূরা, (২৫) سورة الصلاة সলাতে একান্তই পঠিতব্য সূরা।

২. সূরার অনুবাদ-
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহ্র নামে আরম্ভ করছি
(১) যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ্ তাআলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা। (২) যিনি নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু। (৩) যিনি বিচার দিবসের মালিক। (৪) আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি। (৫) আমাদেরকে সরল পথ দেখাও, (৬) সে সব লোকের পথ যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। (৭) তাদের পথে নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব তথা অভিশাপ নাজিল হযেছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।

৩. সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা-
(১) اَلْحَمْدُ ِللهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ – اَلْ অর্থ ‘যাবতীয়’  حَمْدُ ‘প্রশংসা’ ِللهِ ‘আল্লাহর জন্য’ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ ‘জগতসমূহের প্রতিপালক’।  এজন্যেই দেখা যায় যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  খুশীর সময় বলতেন, الْحَمْدُ ِللهِ الَّذِى بِنِعْمَتِهِ تَتِمُّ الصَّالِحَاتُ ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যার অনুগ্রহে সকল শুভ কাজ সম্পন্ন হয়ে থাকে’। আবার কষ্টের সময় বলতেন الْحَمْدُ ِللهِ عَلَى كُلِّ حَالٍ ‘সর্বাবস্থায় আল্লাহর জন্যই সমস্ত প্রশংসা’। (ইবনু মাজাহ)

(২)  الرَّحْمَنِ الرَّحِيْمِ ‘যিনি পরম করুণাময় অসীম দয়ালু’।  ইমাম কুরতুবী বলেন, পূর্বের আয়াতে ‘রববুল আলামীন’ সমগ্র জাহানের প্রতিপালক বলে আল্লাহ যে ভীতিকর বিশেষণ প্রয়োগ করেছেন, পরবর্তী আয়াতে ‘রহমান ও রহীম’ বলে স্বীয় ‘দয়া’ গুণের প্রকাশ ঘটিয়ে উভয় গুণের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেছেন ও মুমিনকে আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ না হওয়ার জন্য উৎসাহ দান করেছেন। অনুরূপভাবে যদি কোনো কাফির জানতো আল্লাহর নিকটে কি পরিমাণ অপার অনুগ্রহ রয়েছে, তাহলে কেউই জান্নাত হতে নিরাশ হত না। তিনি বলেন, আল্লাহ তাঁর নিকটে রক্ষিত রহমতের একশ’ ভাগের এক ভাগ দুনিয়াতে নাজিল করেছেন। যা তিনি জিন, ইনসান, পশু-পক্ষী ও কীট-পতঙ্গ সবকিছুর মধ্যিই বণ্টন করেছেন। তা থেকেই তারা পরস্পরকে ভালবাসে ও পরস্পরের প্রতি দয়া করে। আর সেখান থেকেই জীবজন্তু তাদের বাচ্চাদের প্রতি স্নেহ প্রদর্শন করে। বাকী নিরানববই ভাগ রহমত আল্লাহ রেখে দিয়েছেন, যা তিনি ক্বিয়ামতের দিন বিতরণ করবেন’। (বুখারি ও মুসলিম)

(৩) مَالِكِ يَوْمِ الدِّيْنِ ‘যিনি বিচার দিবসের মালিক’। এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ স্বীয় বান্দাদেরকে একথা বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, সৃষ্টি জগতের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সকল কিছুর চিরন্তন মালিকানা তাঁর হাতে। শাসক যেমন অধীনস্তদের নিয়োগ দান করেন ও তাদেরকে শাসকের নিকটে দায়বদ্ধ থাকতে হয়, তেমনিভাবে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনে বান্দাকে তিনি বিশ্বপরিচালনার বিভিন্ন পর্যায়ে সাময়িকভাবে দায়িত্ব প্রদান করেছেন। বান্দার কর্মজীবনের ছোট-বড় সবকিছুই আল্লাহর গোচরে রয়েছে এবং ক্বিয়ামতের দিন সবকিছুর চূড়ান্ত হিসাব তিনি গ্রহণ করবেন ও সে অনুযায়ী জাহান্নামের শাস্তি অথবা জান্নাতের পুরস্কার দান করবেন। তিনি ইচ্ছা করলে কোন বান্দাকে বিনা হিসাবেও জান্নাত দিতে পারেন। ফলতঃ বিচার দিবসের পূর্ণ মালিকানা ও একচ্ছত্র অধিকার কেবলমাত্র তাঁরই হাতে। তাঁর অনুমতি ব্যতীত কেউ তাঁর নিকটে সুফারিশ করতে পারবে না। তাঁর অনুগ্রহ ব্যতীত কেউ জান্নাতে যেতে পারবে না।

(৪) إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِيْنُ ‘আমরা কেবলমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং কেবলমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি’। আমরা কেবল তোমাকেই ইবাদতের জন্য ও সাহায্য প্রার্থনার জন্য খাছ করছি। তুমি ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করি না এবং অন্য কারো নিকটে সাহায্য প্রার্থনা করি না।
চরম আনুগত্যকে ইবাদত বা উপাসনা বলা হয়। অর্থাৎ আল্লাহর আদেশ পালন ও নিষেধ বর্জনের মাধ্যমে তাঁর প্রতি একনিষ্ঠ ভালবাসা, ভীতি ও আনুগত্য পোষণ করাকে ইবাদত বলা হয়। আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস (রাঃ) বলেন, আয়াতের অর্থ ‘আমরা কেবল তোমারই একত্ব ঘোষণা করি’ তোমাকেই মাত্র ভয় করি এবং তোমার আনুগত্য করার জন্যই তোমার সাহায্য প্রার্থনা করি। এর মধ্যে একটি বিষয়ে আশার সঞ্চার হয় যে, ইবাদত ও তাওয়াক্কুল নিখাদ ত্রুটিমুক্ত  হলে আল্লাহর সাহায্য অবশ্যম্ভাবী। ইবাদত ত্রুটিপূর্ণ হলে এবং তাওয়াক্কুলের মধ্যে খুলূছিয়াতের অভাব থাকলে বান্দার কামনা ও বাসনা পূরণ নাও হতে পারে। সাহায্য চাওয়ার পূর্বে ইবাদতের বিষয় উল্লেখ করার অন্তর্নিহিত তাৎপর্য এটাই।

(৫) اِهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيْمَ ‘তুমি আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন কর’। অর্থাৎ রাস্তা দেখানো। এটি ভাল ও মন্দ দু’অর্থেই আসতে পারে। যেমন আল্লাহ বলেন, ‘আর আমরা কি তাকে (ভাল ও মন্দ) দু’টি পথই দেখাই নি? (সূরা আল-বালাদ : আয়াত ১০)। এখানে ‘হেদায়াত’ অর্থ সুপথ প্রদর্শন ও তার তাওফিক কামনা। যেমন আল্লাহ স্বীয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলেন, ‘নিশ্চয়ই আপনি সরল পথ প্রদর্শন করে থাকেন’ (সূরা আশ-শূরা : আয়াত ৫২)। অনুরূপভাবে জান্নাতবাসীরা আল্লাহকে বলবে, ‘যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদেরকে এর পথ প্রদর্শন করেছেন। আর আল্লাহ আমাদের হেদায়াত না করলে আমরা হেদায়াতপ্রাপ্ত হ’তাম না’… (সূরা আল-আ‘রাফ : আয়াত ৪৩)।

হেদায়াত দুই ধরনের
ক. জ্ঞান বা ইলমের হেদায়াত। যেমন আল্লাহ কুরআনকে ‘মুত্তাক্বিদের জন্য হেদায়াত’ এবং ‘মানবজাতির জন্য হেদায়াত’ বলেছেন। সে বিষয়ে জ্ঞানার্জনের জন্য আল্লাহর হেদায়াত প্রয়োজন।

খ. অন্যটি হলো- ইলম অনুযায়ী আমল করার তাওফিক লাভের হেদায়াত। কারণ ইসলামই যে সরল পথ, তার জ্ঞান অর্জন করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা, এ দু’টির জন্যই আল্লাহ তাআলার হেদায়াত প্রয়োজন।

হেদায়াতের স্তরসমূহ :
ক. প্রথম স্তরে রয়েছে সমস্ত মাখলূক তথা জড়পদার্থ, উদ্ভিদ, প্রাণীজগত ইত্যাদি। এদের মধ্যে প্রয়োজনীয় বুদ্ধি ও অনুভূতির অস্তিত্ব রয়েছে। এরা সকলেই আল্লাহর হেদায়াত অনুযায়ী স্ব স্ব নিয়মে আল্লাহর গুণগান করে থাকে। যেমন এরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা কি জানো না যে, আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবকিছুই আল্লাহর গুণগান করে থাকে? বিশেষ করে পক্ষীকুল যারা সারিবদ্ধভাবে উড়ে বেড়ায়। প্রত্যেকই স্ব স্ব দোয়া ও তাসবিহ সম্পর্কে জ্ঞাত। আল্লাহ তাদের কর্ম সম্পর্কে সম্যক অবগত’ (সূরা আন-নূর : আয়াত ৪১)।

খ. দ্বিতীয় স্তরে রয়েছে জিন ও ইনসান জাতি, যারা অন্যান্য সৃষ্টির চাইতে তীক্ষ্ণ ও উচ্চ জ্ঞানসম্পন্ন মেধার অধিকারী। আল্লাহর পক্ষ হতে নবী-রাসূলগণের মাধ্যমে এদের নিকটে হেদায়াত পাঠানো হয়েছে। কেউ তা গ্রহণ করে ধন্য হয়েছে। কেউ প্রত্যাখ্যান করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গ. হেদায়াতের তৃতীয় স্তরে হলো- মুমিন-মুত্তাক্বিদের জন্য, যাতে তারা অধিকতর নেক বান্দা হওয়ার তাওফিক লাভ করেন। আল্লাহর দেয়া তাওফিক অনুযায়ী এই স্তর বিন্যাস হয়ে থাকে। যেমন আল্লাহপাক বলেন, ‘এই রাসূলগণ! আমরা তাদের একে অপরের উপর মর্যাদা দিয়েছি। তাদের মধ্যে কারো সঙ্গে আল্লাহ কথা বলেছেন এবং কারো মর্যাদা উচ্চতর করেছেন’ (সূরা বাক্বারাহ : আয়াত ২৫৩)। এই তৃতীয় স্তরের মানুষই হলো প্রকৃত উন্নতির ক্ষেত্র। এই স্তরের মানুষেরা অধিকতর হেদায়াত লাভের জন্য সদা সর্বদা আল্লাহর রহমত ও তাওফিক লাভে সচেষ্ট থাকেন। অতএব মানুষ যেখানে যে অবস্থায় থাকুক না কেন, সর্বদা পবিত্র কুরআন ও সহিহ হাদিসে প্রদত্ত আল্লাহর হেদায়াত সমূহ অনুসরণে সিরাতে মুস্তাক্বিমের সরলপথ ধরে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে যাবে তার সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর পানে, জান্নাত লাভের বাসনা নিয়ে, এটাই হলো অত্র আয়াতের প্রকৃত তাৎপর্য।

(৬)  صِرَاطَ الَّذِيْنَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ ‘ঐ সকল ব্যক্তিদের পথ যাদেরকে তুমি পুরস্কৃত করেছ’। আল্লাহ যাদেরকে পুরস্কৃত করবেন, তা কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘তারা হলেন নবীগণ, ছিদ্দীক, শহীদ ও সৎকর্মশীল বান্দাগণ’ (সূরা আন-নিসা : আয়াত ৬৯)।

(৭) غَيْرِ الْمَغْضُوْبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّيْنَ ‘তাদের পথ নয়, যারা অভিশপ্ত ও পথভ্রষ্ট হয়েছে’। অত্র আয়াতে বর্ণিত ‘মাগদুব’ (অভিশপ্ত) এবং ‘দা-ল্লীন’ (পথভ্রষ্টগণ), এ সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘তারা হলো ইয়াহূদ ও নাছারাগণ’। (তিরমিজি)

অতএব ‘মাগদুব’ হলো ইহুদিরা এবং যুগে যুগে ঐসব লোকেরা, যারা ইহুদিদের মত হক বা সত্য জেনেও আল্লাহর বিধানের উপর আমল করে না। ‘দা-ল্লিন’ হলো নাছারাগণ এবং যুগে যুগে ঐসব লোক, যারা নাছারাদের মত মূর্খতাবশত হক বা সত্যবিরোধী আমল করে। মানুষ হক প্রত্যাখ্যান করে মূলতঃ হঠকারিতা ও অজ্ঞতার কারণে। দু’টির মধ্যে কঠিনতর হ’ল হঠকারিতার দোষ। যে কারণে ইহুদিরা স্থায়ীভাবে অভিশপ্ত হয়েছে। অত্র আয়াতে সেজন্য তাদেরকে আগে আনা হয়েছে ও পরে নাছারাদের কথা এসেছে।

৪. সূরা ফাতিহার বিষয়বস্ত-
সূরা ফাতিহার মূল বিষয়বস্তু হলো দোয়া বা প্রার্থনা। একারণেই এই সূরার অন্যতম নাম হলো ‘সূরাতুদ দোয়া’। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করন ‘শ্রেষ্ঠ জিকির হলো- লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং শ্রেষ্ঠ দোয়া হলো- ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বা সূরা ফাতিহা’। (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, মিশকাত) এর দ্বারা একথাই বুঝানো হয়েছে যে, মহাগ্রন্থ আল-কুরআন থেকে ফায়েদা পেতে হলে তাকে অবশ্যই উক্ত নিয়তে আল্লাহর নিকটে প্রার্থনা করতে হবে। এই সূরাতে বর্ণিত মূল দোয়া হলো ৫ম আয়াত, ‘তুমি আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন কর’! মূলতঃ সমস্ত কুরআনই উক্ত প্রার্থনার বিস্তারিত জওয়াব।

সুতরাং সূরাতুল ফাতিহা জ্ঞান লাভের, হিদায়াত গ্রহণের জন্য প্রতিটি মানুষের পরিবার, দেশ, জাতি তথা সারা বিশ্ববাসীর জন্য অতীব কল্যাণের এক মহাসাগর। উক্ত কল্যাণের এই অথৈ সাগর হতে স্বীয় আগ্রহে তাড়িত হয়ে এক সার্বিক পথ নির্দেশনা গ্রহণ করতে সমগ্র মানব জাতি উন্মুখ হয়ে আছে। যে কারণে উক্ত সূরাখানি মহাপবিত্র কুরআনের ভূমিকা হিসেবে কুরআনের শুরুতেই সন্নিবেশ করা হয়েছে। সুতরাং এর গভীর ও তাত্ত্বিক আলোচনা করতে গিয়ে তাফসীরকারগণ বলেছেন- মানবজাতির হিদায়াতের জন্য কেবল এই একটি মাত্র সূরাই যথেষ্ট, যদি সে নিরপেক্ষ অনাবিল মন মানসিকতা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে। সুতরাং আলোচ্য সূরাটি আল্লাহ তা‘আলার শ্রেষ্ঠ দান ও অপূর্ব নিয়ামাত হওয়ায় আল্লাহর দরবারে  প্রার্থনা, তিনি যেন এ সূরার পরিপূর্ণ ফায়েদা মানবজাতিকে অর্জনের তাওফিক দান করেন। আমিন।

লেখাঃ জাগো নিউজ২৪।

বিজ্ঞাপন




শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও
© ২০২১ - সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । হক কথা ২৪.নেট
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )