● মঙ্গলবার, মে 21, 2024 | 01:38 অপরাহ্ন

স্মৃতির পাতায় আশুরা

স্মৃতির পাতায় আশুরা

হিজরি বর্ষের প্রথম মাস মহররম। সম্মানিত ও মহিমান্বিত যে চারটি মাসের উল্লেখ আছে তার মধ্যে মহররম একটি। এই মাসের দশ তারিখে আশুরা অতি মর্যাদাপূর্ণ একটি দিন।
যাকে বরকতময় ও বিজয়ী দিন বলা হয়।

আশুরা শব্দটি আরবি আশারাতুন থেকে এসেছে যার অর্থ দশ।

সূরা তাওবার ৩৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন,

আকাশ মন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন হতেই আল্লাহর বিধানে আল্লাহর নিকট মাস গণনায় বারটি, তন্মধ্যে চারটি নিষিদ্ধ মাস, এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান। সুতরাং তোমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করো না এবং তোমরা মুশরিকদের সাথে সমবেতভাবে যুদ্ধ করবে যেমন তারা তোমাদের সাথে সমবেতভাবে যুদ্ধ করে থাকে। এবং জেনে রাখ যে আল্লাহ সাবধানীদের সঙ্গেই আছেন।

আশুরার এই দিনে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর প্রিয় নাতি হযরত হাসান (রাঃ) এবং হযরত হোসাইন (রাঃ) কে কারবালার মাঠে শহীদ করা হয়।

শুধু তাই নয়, পৃথিবীর ইতিহাসে এই দিনটিতে আরও অনেক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে।

*যেদিন পৃথিবীর প্রথম মানব হযরত আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করা হয় এবং জান্নাত থেকে পৃথিবীতে প্রেরণ করা হয় সেই দিনগুলো ছিল ১০ই মহররম।
শুধু তাই নয়, যেদিন আরাফাতের ময়দানে জাবালে রহমতে হযরত আদম (আঃ) এবং হযরত হাওয়া (আঃ) মিলিত হন এবং তাদেরকে ক্ষমা করে দেওয়া হয় সেই দিনটিও ছিল ১০ই মহররম।

*নুহ (আঃ) এর যুগে যে মহাপ্লাবন সংঘটিত হয়েছিল তাতে পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল!
শুধুমাত্র নুহ (আঃ) ও অনুসারীরা রক্ষা পেয়েছিল।
যেদিন নুহ (আঃ) ও তার সাথীরা রক্ষা পেয়েছিল সেদিন ছিল ১০ই মহররম।

*আইয়ুব (আঃ) ১৮ বছর কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত ছিলেন। যেদিন তিনি রোগ থেকে মুক্তি লাভ করেন সেই দিনটি ছিল ১০ই মহররম।

*ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ যেদিন অগ্নিকুণ্ড থেকে নিরাপদে মুক্তি লাভ করেন সেই দিনটিও ছিল ১০ই মহররম।

*দাউদ (আঃ) কে বিশেষ ক্ষমা করা হয় এবং সুলাইমান (আঃ) কে স্বীয় হারানো বাদশাহী পুনরায় ফেরত দেওয়া হয় ১০ই মহররম।

*আল্লাহ তাআলা যেদিন ইউনুস (আঃ) কে ৪০দিন পর মাছের পেট থেকে নিষ্কৃতি দেন সেদিন ছিল ১০ই মহররম।

*ইয়াকুব (আঃ) যেদিন তার হারানো পুত্র ইউসুফ (আঃ) কে ফিরে পান সেদিন ছিল ১০ই মহররম।
*ইসলামের চির শত্রু ফেরাউন যেদিন নীল নদে ডুবে মারা যায় এবং মূসা (আঃ) তার কবল থেকে মুক্তি পান সেদিন ছিল ১০ই মহররম।

*শত্রুর হাত থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য যেদিন আল্লাহ তাআলা ঈসা (আঃ) কে আকাশে তুলে নেন সেদিন ছিল ১০ই মহররম।

*যেদিন হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) হিজরত করে মদীনায় পৌঁছান সেদিনও ছিল ১০ই মহররম।

রাসূল (সাঃ) যখন হিজরত করে মদীনায় পৌঁছান, তিনি দেখলেন মদীনার লোকেরা রোজা রেখেছে। তিনি প্রশ্ন করলেন, “তোমরা কিসের রোজা রেখেছ?”
তারা বললো, “আমরা আশুরার রোজা রেখেছি। “
নবীজি (সঃ) তার অনুসারীদেরকে আশুরার রোজা রাখতে নির্দেশ দিলেন। তবে শুধু ১০ই মহররম নয় তার সাথে মিলিয়ে ৯ অথবা ১১ই মহররম। মূলত ইহুদিদের থেকে আলাদা করার জন্যই তিনি এমনটি করেছিলেন।
আশুরার দিন রোজা রাখার ফজিলত সম্পর্কে মহানবী (সঃ) বলেন, “আল্লাহর কাছে আমি আশা করি তিনি বিগত এক বছরের গুনাহ মাফ করে দিবেন।” (সহীহ্ মুসলিম-১১৬২)

রাসূল (সাঃ) বলেছেন, “রমযানের পর সবচেয়ে উত্তম সিয়াম হলো মুহররম মাসের সিয়াম। ” (সহীহ্ মুসলিম-১৯৮২)

কালের আবর্তে মানুষের ধ্যাণ ধারণা পরিবর্তিত হয়েছে। কিছু কিছু মানুষ সঠিক বিষয় সঠিকভাবে না জেনে উল্টাপাল্টা কাজকর্ম করে থাকে। যেগুলোর কোন শরয়ী ভিত্তি নেই। অথচ করণীয় সম্পর্কে উদাসীন!

এদিনকে কারবালার দিন হিসেবে উদযাপন করা, হুসাইন (রাঃ) এর মৃত্যুর স্মরণে শরীরে আঘাত করা, শরীর রক্তাক্ত করা, তাজিয়া মিছিল করা ইত্যাদি সবই বর্জনীয়। এগুলো রাসূল (সাঃ) এবং সাহাবীগণ থেকে প্রমাণিত নয়।
আল্লাহ আমাদেরকে সহীহ্ বুঝ দান করুন, আমিন।

লেখক পরিচিতি-
নূরজাহান তানিয়া
পাঁচুখার কান্দি,জাজিরা,শরীয়তপুর
মোবাইলঃ 01752771492

এই সম্পর্কিত আরও

আবুল কালাম
বিস্তারিত...
 আরবে ঈদের তারিখ ঘোষণা
বিস্তারিত...
রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান
বিস্তারিত...
813788_175
বিস্তারিত...
জান্নাতের ফুল
বিস্তারিত...
মিসওয়াক
বিস্তারিত...