1. faysalislam405@gmail.com : ফয়সাল ইসলাম : ফয়সাল ইসলাম
  2. tajul.islam.jalaly@gmail.com : তাজুল ইসলাম জালালি : তাজুল ইসলাম জালালি
  3. marufshakhawat549@gmail.com : মারুফ হোসেন : মারুফ হোসেন
  4. najmulnayeem5@gmail.com : নাজমুল নাঈম : নাজমুল নাঈম
  5. rj.black.privateboy@gmail.com : rjblack :
  6. saddam.samad.24@gmail.com : সাদ্দাম হোসাইন : সাদ্দাম হোসাইন
  7. samirahmehd1997@gmail.com : Samir Ahmed : Samir Ahmed
বুধবার, ২৩ জুন ২০২১, ০৯:১২ পূর্বাহ্ন

শবে বরাত

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ২৩ মার্চ, ২০২১
  • ৩০ বার পড়া হয়েছে
Shabe Barat

‘হা মীম। শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের। আমি ইহা অবতীর্ণ করেছি এক মুবারক রাতে। নিশ্চই আমি সতর্ককারী। এ রাতে প্রজ্ঞাপূর্ণ সবকিছু স্থিরীকৃত হয়। আমার পক্ষ থেকে আদেশক্রমে আমিই রাসূল প্রেরণকারী। আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে রহমত স্বরূপ। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।’ অধিকাংশ তাফসীরবীদ-এর মতে উল্লেখিত আয়াতসমূহ শবে ক্বদরের ফযীলত বর্ণনার ব্যাপারেই অবতীর্ণ হয়েছে, যা রমযান মাসের শেষ দশকে হয়। তবে কিছু কিছু তাফসীরকারকদের মতে শবে-বরাতের ফযীলতের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে।

বিশিষ্ট দশজন সাহাবী থেকে শবে-বরাতের ফযীলত অবতীর্ণ হয়েছে। উল্লেখ্য, কোন কোন হাদীস সনদের দিক থেকে দুর্বল বলে কোন কোন আলেম বলেন, এ রাতের ফযীলত ভিত্তিহীন। কিন্তু পর্যালোচনা করলে প্রমাণিত হয় যে, উক্ত মতামত সঠিক নয়। কারণ, মুহাদ্দিসীনের সিদ্ধান্ত এই যে, যদি কোন হাদীস সনদের দিক থেকে দুর্বল হয়, আর অন্যান্য হাদীস তার সমর্থন করে, তবে দুর্বল হাদীসের দুর্বলতা দূর হয়ে যায়। সুতরাং শবে-বরাতের হাদীসগুলোকে ভিত্তিহীন বলা ঠিক নয়। অধিকন্তু মুহাদ্দিসগণের অভিমত হলো- ‘দুর্বল সনদ বিশিষ্ট হাদীসও আমলের উপযুক্ত।’ সুতরাং শবে-বরাতের ফযীলতের ব্যাপারে আর কোন সংশয় বাকি থাকে না।

শবে-বরাত ক্ষমার মৌসুমঃ আল্লাহ তা’আলা শাবান মাস ও তার পনের তারিখের রাতকে উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য রহমত ও গুনাহ মাফের মৌসুম বলে অভিহিত করেন। পুরা বছরই আল্লাহ তা’আলা বান্দার গুনাহ মাফ করেন। অন্যান্য নবী-রাসূলের উম্মতগণ হাজার-বারশ বছরও হায়াত পেয়েছেন। তারা এ দীর্ঘ সময় ইবাদত করার কারণে জান্নাতের অধিকারী হবে। কিন্তু উম্মতে মুহাম্মাদী হায়াত পাবে ষাট থেকে সত্তর বছর। এই অল্প সময়ে ইবাদত যেন দীর্ঘ সময়ের ইবাদতের চেয়েও মূল্যবান হয়, এ জন্য আল্লাহ তা’আলা বিশেষ কিছু সময়, দিন ও মাস দান করেছেন, যেন বান্দা তওবার মাধ্যমে আপন গুনাহ সমূহ হতে মুক্তি পেতে পারে ও বিশেষ ফযীলত হাসেল করতে পারে। রাসূল (সা.)-ইরশাদ করেন- যখন শাবান মাসের পনের তারিখের রাতের আগমন ঘটে, তখন তোমরা সে রাতে নফল নামায পড় ও দিনে রোযা রাখ। কেননা আল্লাহ তা’আলা এ রাতে সুর্যাস্তের সাথে সাথে প্রথম আকাশে অবতরণ করেন এবং আওয়াজ দিয়ে বলতে থাকেন- কোন ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছে কি? যে আমার নিকট ক্ষমা চাইবে, আর আমি তাকে ক্ষমা করে দিব। কোন রিযিক অন্বেষণকারী আছে কি? যে আমার নিকট রিযিক চাইবে, আর আমি তাকে রিযিক দান করব। কোন বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি আছে কি? যে আমার নিকট তা থেকে পরিত্রান চাইবে, আর আমি তার বিপদ দুরীভূত করে দেব। এভাবে তিনি সুবহে সাদিক পর্যন্ত ডাকতে থাকেন।

বস্তুত আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানুষের সকল সমস্যা সমাধান দিতে চান। কিন্তু আমার সেদিকে ভ্রুক্ষেপই করি না। আল্লাহর রহমত বান্দার দরজায় করাঘাত করে বলে, হে গুনাহগার! গুনাহ নিয়ে আস, ক্ষমা করে দেয়া হবে। রিযিক পাওয়ার জন্য আস, রিযিক দেয়া হবে। সন্তান পাওয়ার জন্য আস, সন্তান দেয়া হবে। দুনিয়া ও আখিরাতের যে কোন সমস্যা সমাধান পেতে আস, সমাধান দেওয়া হবে। জান্নাত পাওয়ার অভিপ্রায়ে এগিয়ে আস, জান্নাত দেওয়া হবে। মজার ব্যাপার হল, সব কিছু্ দেয়া হবে, বিনিময়ে কিছু নেয়া হবে না। সুতরাং হে মানবকুল! আল্লাহর রহমতের দ্বারা সদা উন্মুক্ত। যে কোন মুহূর্তে তোমরা বিনামূল্যে রহমত গ্রহন করতে পার।

আমাদের পূর্বপুরুষগণ এ রাতে আল্লাহর রহমতের সমুদ্রে নিমজ্জিত থাকতেন। রাসূল (সা.) নিস্পাপ হওয়া সত্ত্বেও উম্মতের কল্যানে ও মুক্তির প্রত্যাশায় অশ্রূর বন্যা বইয়ে দিতেন। হযরত আবু বক্কর সিদ্দীক (রাঃ), হযরত ওমর ফারুক (রাঃ), উসমান (রাঃ) ও আলী (রাঃ) প্রমূখ সাহাবাগণ এ রাতে পুরা সময়টুকু অতিবাহিত করতেন রহমত, মাগফেরাত ও নাজাত অন্বেষণে। যুগে যুগে আল্লাহর ওলীগণ এ রাতে ইবাদত-বন্দেগীতে মশগুল থাকতেন।

কিন্তু পরিতাপের বিষয় হল, বর্তমানে আমরা নিজেদেরকে উম্মতে মুহাম্মাদী, আশেকে রাসূল (সা.), ও খোদা প্রেমিক দাবী করি। কিন্তু রাসূল (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের পথ ছেড়ে শরীয়তের গন্ডি হতে দূরে বহু দূরে অবস্থান করি। সুন্নাতের কোন তোয়াক্কা করি না। বেদ’আত ও কুসংস্কার লিপ্ত থাকি। খৃষ্টপন্থী ফটকাবাজ ও ফেরেকবাজদের কবলে পড়ে ঈমান ও ঐতিহ্য হারাতে বসেছি। আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের জন্য এ রাতের বিশাল সুযোগ দান করেছেন। আমরা ফিরে আসব। আবার ইসলামের ছায়াতলে ফিরে আসব। আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করব।

বিজ্ঞাপন





শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

এই সম্পর্কিত আরও
© ২০২১- সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । হক কথা ২৪.নেট
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )